খাদিমপাড়ায় দেয়াল ধসে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নার্সারীর ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নে একটি সীমানা প্রাচীর ধসে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘সুগন্ধা নার্সারী’র ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে নার্সারীর একটি স্টাফ কোয়ার্টার ও চারটি ইনডোর অর্কিড শেড বিধ্বস্ত হওয়াসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা। দুর্ঘটনায় নার্সারীর এক কর্মচারী ও তার শিশু সন্তান আহত হয়েছেন।
২০ জুন ভোর ৫টার দিকে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের হারপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নার্সারী সূত্রে জানা যায়, সুগন্ধা নার্সারীর প্রতিবেশী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘শাহ ফিরোজ এন্টারপ্রাইজ’ সম্প্রতি তাদের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অত্যন্ত উচু এই দেয়ালটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে দেয়ালটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শনিবার ভোরে হঠাৎ ধসে নার্সারীর ওপর পড়ে। এতে কয়েক হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা পিষ্ট হয়। দেয়াল ধসের সময় একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিও নার্সারীর ওপর উপড়ে পড়ে, যা আরও বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
সুগন্ধা নার্সারীর স্বত্বাধিকারী ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা বেগম অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমরা প্রতিটি চারাকে সন্তানের মতো লালন-পালন করি। দেয়াল ধসে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া নার্সারীটি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। দুর্ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও দেয়ালের মালিক পক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজখবর নেয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” তিনি এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
এ বিষয়ে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, সুগন্ধা নার্সারীর সুনামের কথা আমাদের জানা। তবে দেয়াল ধসের বিষয়টি এখন পর্যন্ত কেউ আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত মালিক পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করা সুগন্ধা নার্সারীটি সিলেটের বাগান প্রেমীদের কাছে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এই আকস্মিক দুর্যোগে নার্সারীটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বৃক্ষপ্রেমীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা অবিলম্বে দোষী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
