লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে গাছ পাচারের মহোৎসব
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মূল্যবান গাছ পাচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বনের গভীরে অন্তত ১৫-১৬টি গাছের কাটা গোড়া পাওয়ার পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরেজমিন তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রোববার (৭ জুন) একদল সংবাদকর্মী উদ্যানের প্রধান ফটক থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করলে বন নিধনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে। সেখানে সেগুন, আগর, আকাশমনি ও চামলসহ বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি গাছের কাটা গোড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া গভীর জঙ্গলে ঝড়ে উপড়ে পড়া প্রায় শতবর্ষী দুটি বিশাল সেগুন গাছও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনবিভাগের নজরদারি এড়িয়ে বা যোগসাজশে একটি প্রভাবশালী চক্র নিয়মিত ট্রাকযোগে এসব মূল্যবান কাঠ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পড়ে থাকা বিশালাকার গাছগুলোও চোরচক্রের কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বনবিভাগের পক্ষ থেকে অবশ্য নিয়মিত তদারকির দাবি করা হয়েছে। লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, আমাদের টহল সার্বক্ষণিক জোরদার থাকে। প্রতি মাসে ৪-৫টি মামলাও দেওয়া হচ্ছে। ঝড়ে পড়া গাছগুলো বনের অত্যন্ত গভীরে হওয়ায় এবং চলাচলের পথ না থাকায় সেগুলো রেঞ্জ অফিসে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
অন্যদিকে, রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) প্রীতম বড়ুয়া লোকবল সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশাল বনাঞ্চলের তুলনায় আমাদের লজিস্টিক সাপোর্ট ও লোকবল অনেক কম। তবে আমরা সাধ্যমতো অভিযান পরিচালনা করছি এবং কাঠ ও বাঁশ চোরদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
বন উজাড়ের এই অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, লাউয়াছড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এখান থেকে একটি গাছ কাটাও বরদাশত করা হবে না। যেখানে গাছ কাটার খবর পাওয়া গেছে, সেখানে বন বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে আমি নিজে সরেজমিন তদন্ত করবো। অভিযোগের সত্যতা পেলে অপরাধী এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। এভাবে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন চলতে থাকলে এখানকার বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী হুমকিতে পড়বে এবং বনাঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ হারাবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় বন বিভাগ ও প্রশাসনকে আরও সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
