জৈন্তাপুরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সহযোগিতায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন খামার
জৈন্তাপুরে গরুর খামার করে সফল হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এই উপজেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত গরুর খামার রয়েছে ৩৫টি, ছোট-বড় আরো আছে দুই শতাধিক। খামারগুলোতে ফ্রি ভ্যাকসিন ও কীটনাশক প্রয়োগসহ সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। বর্তমানে এই খামারে সর্বোচ্চ দুটি ষাড় রয়েছে। একটি ওজন ১২শ কেজি এবং অপরটির ওজন ১হাজার কেজি।
বর্তমান সময়ের একটি সফল গরুর খামার হলো গ্যালারিয়া এগ্রো ফার্ম। এটি জৈন্তাপুর উপজেলার ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামে অবস্থিত।
চাক্তা গ্রামের শাহিদ উদ্দিন ৩বছর আগে নিজের বাড়ীতে প্রথমে দেশীয় প্রজাতির কয়েকটি গরু দিয়ে একটি খামার শুরু করেন। এর পর পরীক্ষামূলক মাত্র ৪টি বিদেশী গরু ত্রুয় করার মাধ্যমে খামারের যাত্রা শুরু হয়।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদের পরামর্শে খামারটি স্থানান্তর করা হয় চারিকাট ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামে। সেখানে প্রায় তিন একর জমির উপর গড়ে তুলা হয় গ্যালারিয়া এগ্রো ফার্ম। পর্যায়ক্রমে পরম যতেœ গড়া উঠা গাভীগুলো বাচ্চা দিতে থাকে, একই সাথে গাভী থেকে সংগৃহীত দুধ বাজারজাতও করা হয়। গেলো বছরে খামারের ছোট-বড় গরুর সংখ্যা ছিল ২শতাধিক আর প্রাপ্ত দুধের পরিমাণ ছিল ১৮০লিটার।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যায় চাষকৃত নেপিয়ার ঘাস ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন রকম খাদ্য সংকট থাকার কারণে বর্তমানে দুধ সংগ্রহ হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০লিটার। ইতোপূর্বে বেশ কয়েকটি গরু বিক্রিও করা হয়েছে, তার পরও এখনো খামারে সব মিলিয়ে শতাধিক গরু রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন কুরবানীর ঈদে বিক্রি করার উপযোগী আছে ১০ থেকে ১৫টি গরু।
এর মধ্যে কালো রংয়ের একটি ষাড় রয়েছে যার ওজন প্রায় ১২শ কেজি এবং লাল রংয়ের অপর একটি ষাড় যার ওজন হবে ১হাজার কেজি। এই দুইটি গরু গ্যালারিয়া এগ্রো ফার্মের সর্বোচ্চ সাইজের গরু বলে জানা যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন দেশের শিক্ষিত বেকার যুব সমাজ চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। একটি খামার করতে খুব বেশি পুজির প্রয়োজন হয় না। অল্প পুঁজি হলেও দক্ষতা আর কঠোর পরিশ্রম একজন উদ্যেক্তাকে সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌছে দিতে পারে।
শাহিদ উদ্দিনের খামার এক সময় খুব বড় ছিল না, প্রথমে নিজের বাড়ীতে অল্প পরিসরে শুরু করেন, তার পর অনেক পশ্রিমের ফলে পর্যায়ক্রমে একটি সফল খামারে পরিনত হয়েছে। আমরা এই খামারে সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভ্যাকসিনসহ বিভিন্ন রকম রোগবালাইয়ে যেসকল চিকিৎসা ফ্রি দেওয়ার তা যথা সময়ে দিয়েছি এবং সবরকম পরামর্শসহ আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে।
আমার জানামতে এই খামারে কোন রকম ষ্ট্রেরয়েড বা কোন রকম হরমুন ব্যবহার হয়নি। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মুটাতাজা করা হচ্ছে। জৈন্তাপুর উপজেলায় এরকম আরো বেশ কয়েকটি খামার রয়েছে, আমি সহ আমার অফিসের সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই একটি ঠিম ওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই নতুন নতুন উদ্যক্তারা এরকম খামার প্রতিষ্টায় এগিয়ে আসবে এবং আমরা তাদের সর্বোচ্ছ সেবা দিতে প্রস্তুত আছি।
এদিকে খামারের পরিচালক শাহিদ উদ্দিন’র সাথে আলাপকালে তিনি বলেন এই খামার প্রতিষ্ঠায় আর্থিকভাবে সর্বোচ্ছ সহযোগিতা করেছেন আমার ভাই কামাল আহমদ, জামাল আহমদ সহ অন্যান্য প্রবাসী ভাইয়েরা। আর খামারে খাদ্য, চিকিৎসা সহ যাতীয় ক্ষেত্রে আমি আন্তুরিক সহযোগিতা পেয়েছি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মাচারীর কাছ থেকে। আমি বিশ্বাস করি যে কেউ এরকম খামার করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারবে। আমিও অল্প থেকে শুরু করে এখন একজন সফল খামারী। সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় আমাদের গরুর অনেক খাদ্য নষ্ট হয়েছে। তার পর এখনো ৮০ থেকে ১০০ লিটার দুধ পাচ্ছি, আমরা বিগত বন্যায় বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিদিন আমাদের খামারের উৎপাদিত দুধ বন্যার্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি।
২৮ জুন মঙ্গলবার ১২টায় গ্যালারিয়া এগ্রো ফার্ম পরিদর্শে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহির উদ্দিন, জাহের আহমদ।
