আম্বরখানার যানজট নিরসনে সিউকের মেগা প্রকল্প
সিলেট মহানগরের অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা আম্বরখানার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন এবং এলাকাটিকে আধুনিক ও চলাচলবান্ধব করতে সমন্বিত মেগা প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। শুধু সাময়িক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি টেকসই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের আদলে সিলেটেও ‘এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব উঠেছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সম্মেলন কক্ষে সুধীজন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক অঙ্গীকারবদ্ধ। আম্বরখানা পয়েন্ট সিলেট যোগাযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু। তাই এই এলাকার যানজটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ, ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এ প্রকল্প সফল করতে সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।
সভায় চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আদলে সিলেটেও প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। সিউকের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার যুগান্তকারী উন্নয়নে এ ধরনের মেগা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে।
সভায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিকল্প প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মাহমুদা সুলতানা। তিনি রাজধানী ঢাকার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকার মার্কেটগুলোর সাপ্তাহিক ছুটির দিন পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে। একেক এলাকার মার্কেট একেক দিন বন্ধ থাকলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল থাকার পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপ সুষমভাবে বণ্টিত হবে এবং যানজট অনেকটাই কমবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) গৌতম দেব বলেন, যানজট নিরসনে সড়কে কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা জরুরি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস ও রিকশার অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে এদের জন্য সুনির্দিষ্ট রুট ও স্টপেজ নির্ধারণ করা আবশ্যক। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মনীতি কঠোরভাবে কার্যকর করা গেলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।
সভায় জানানো হয়, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে আম্বরখানার জন্য একটি যুগোপযোগী মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে বিশিষ্ট স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ জেরিনা হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সরেজমিনে আম্বরখানা এলাকা পরিদর্শন করে যানবাহনের চাপ, সড়কের ব্যবহার উপযোগিতা ও বিদ্যমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেবে।
পরিকল্পনা প্রণয়নে ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৩’-এর আলোকে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পর্যটনবান্ধব নাগরিক অবকাঠামো নির্মাণের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সভায় জানানো হয়।

