আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী জিয়াউল হক জিয়া পেলেন ‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড
চারুকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘ড. মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী, সংগঠক ও ‘চারুহাট চিত্রাঙ্কন একাডেমি’র পরিচালক জিয়াউল হক জিয়া।
গত শনিবার সিলেট বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে ‘ইতিহাসবিদ ডক্টর মুমিনুল হক একাডেমি’র উদ্যোগে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
সংগঠনটির সভাপতি ও লোকসংস্কৃতি গবেষক আবু সালেহ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আশরাফুল করিম। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মাসুদুল হাসান।
একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মো. ফাতাউর রহমান ও উপস্থাপিকা হেপি জান্নাতের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এমদাদুল হক এবং কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক সেলিম আউয়াল।
উল্লেখ্য, ইতিহাসবিদ ডক্টর মুমিনুল হক একাডেমির উদ্যোগে প্রতিবছর শিক্ষা, সাহিত্য, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও চারুকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য সিলেট বিভাগের চার জেলার বিশিষ্টজনদের এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর বিভাগের মোট ৪০ জন গুণী ব্যক্তিকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী জিয়াউল হক জিয়ার আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম ইতিপূর্বে ইকুয়েডর, নেপাল ও ভারতসহ দেশে-বিদেশের বহু আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে স্থান পেয়ে প্রশংসিত হয়েছে। ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি কুলাউড়া শাখার চারুকলা প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি ঐতিহ্যবাহী নবীনচন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১৫ সালে কুলাউড়ায় শিশুদের মেধা বিকাশে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চারুহাট চিত্রাঙ্কন একাডেমি’।
চিত্রশিল্পের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত লেখালেখি ও নাট্যচর্চায় যুক্ত। ছোটদের জন্য তাঁর লেখা বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে; যার মধ্যে ‘ঘুমন্ত বিবেক জাগানোর সভা’, ‘দুষ্টু এক আমি’, ‘ভূতুড়ে মাছ’ এবং নাটক ‘বোকা ধোকা’ পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে।
