ব্রিটেনে ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন সুনামগঞ্জের আ স ম মাসুম
যুক্তরাজ্যে বাংলা সাংবাদিকতার বিকাশ, প্রবাসে কমিউনিটির অধিকার রক্ষা এবং গণমাধ্যমে দীর্ঘ আড়াই দশকেরও বেশি সময় ধরে অনন্য ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও টেলিভিশন প্রযোজক আ স ম মাসুম।
বার্মিংহামের নিউ বিংলে হলে আয়োজিত ‘চতুর্থ ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস অ্যাওয়ার্ডস’-এর বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পাঁচ শতাধিক আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে সম্মাননা স্মারকটি তুলে দেন যুক্তরাজ্যের মূলধারার প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘বার্মিংহাম মেইল’-এর সম্পাদক গ্রাহাম ব্রাউন।
অনুষ্ঠানে ব্যবসা, গণমাধ্যম ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২১ জন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও ব্রিটিশ ব্যক্তিত্ব এবং ১৫টি সফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।
সুনামগঞ্জের কৃতি সন্তান আ স ম মাসুম দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা, টেলিভিশন প্রযোজনা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। ২০০০ সালে দেশের শীর্ষ দৈনিক ‘প্রথম আলো’য় লেখার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার সূচনা। এরপর ২০০৩ সালে চ্যানেল এস বাংলাদেশে প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন এবং পেশাগত দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে পরের বছরই প্রতিষ্ঠানটির সিলেট ব্যুরোপ্রধানের দায়িত্ব পান।
২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়ে চ্যানেল এস ইউকে’তে সিনিয়র প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘চ্যানেল এস স্টার’-এর সহপ্রযোজক হিসেবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাপ্রবাহ সাহসিকতার সাথে কাভার করেন। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতায় তিনি প্রয়াত ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের সংবাদ সংগ্রহ করেন।
২০১০ সাল থেকে তিনি দৈনিক ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বাংলা টিভি’র হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সময়ের চাহিদায় ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশ ঘটাতে ২০১২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক বাংলা ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘রানার টিভি’, যা বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠস্বর।
পেশাগত সাংবাদিকতার বাইরে আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মকাণ্ডেও মাসুমের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ২০১৫ সাল থেকে ইকরা টিভি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা আল খায়ের ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানবিক সংকট ক্যামেরাবন্দি করতে তিনি বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশ সফর করেছেন।
সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন ‘লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব’-এ টানা ১১ বছর বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ থাকাকালে ক্লাবের স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠা ও গঠনতন্ত্র সংস্কারে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য এর আগে ২০১৮ সালে ‘ব্রিটিশ বাংলাদেশি পাওয়ার ১০০’ তালিকায় স্থান পান এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ‘ইস্টহ্যান্ডস চ্যারিটি’র প্রধান নির্বাহী ও ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের উপদেষ্টা হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
সংবাদ সংগ্রহ, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে আড়াই দশকের এই পথচলার স্বীকৃতি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
