শমশেরনগরে এনজিওর কাছে জমানো টাকা চাইতে গিয়ে হামলার শিকার গ্রাহক
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে ‘পাতাকুঁড়ি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা’ নামের একটি এনজিওর বিরুদ্ধে গ্রাহকের সঞ্চয়ের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, গালাগাল ও হামলার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শিমুল মিয়া (২৭) বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিমুল মিয়ার মায়ের সঞ্চিত অর্থের বিপরীতে সংস্থাটির কাছে তাঁদের পরিবারের পাওনা রয়েছে ২২ হাজার টাকা। গত ২৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টায় পাওনা টাকার হিসাব চূড়ান্ত করার কথা বলে শিমুলকে শমশেরনগর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখার পর হিসাব চাইলে কার্যালয়ের কর্মচারীরা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া শুরু করেন এবং বিভিন্ন সময়ে ১০, ১১ ও ১২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে শিমুল ১২ হাজার টাকাই চাইলে সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। শিমুলের দাবি, কার্যালয়ে উপস্থিত ৭-৮ জন লোক তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির আরও কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাঁরা নিয়মিত ঋণ গ্রহণ ও কিস্তি পরিশোধ করে আসলেও সঞ্চিত টাকার সঠিক হিসাব দেয় না এই ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাটি।
তবে গ্রাহকের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাতাকুঁড়ি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার শমশেরনগর কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মুমিনুল হক। তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলি হওয়ার সময় শিমুলের মা কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তখন হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।” বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সানোয়ার হোসেনের মাধ্যমে সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, ঘটনা সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

