দেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে টুজি নেটওয়ার্ক, ঝুঁকিতে ৬ কোটি বাটন ফোন
বাটন ফোনের ব্যবহারে আসছে বড় পরিবর্তন। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে টুজি নেটওয়ার্ক। ২০২৯ সালের পর প্রচলিত বাটন ফোন আর কাজ করবে না। ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক থেকে বাদ পড়বে ছয় কোটি টুজি হ্যান্ডসেট। বিটিআরসির এই উদ্যোগে নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষেণ খরচ কমবে মোবাইল অপারেটরদের। তবে সস্তা ফোনের বাজার হারাবে দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা।
কোনো জটিল ফিচার নেই, দামও হাজার টাকার নিচে। কথা বলা আর ছোট্ট বার্তা পাঠাতে তাই গ্রামের মানুষের ভরসা টুজি বাটন ফোন। দেশের নেটওয়ার্কে এমন ফোন চালু আছে প্রায় ছয় কোটি। কিন্তু ২০২৯ সালের পর টুজি ফোনে আর কথা বলা যাবে না।
দেশের সব নাগরিককে ডিজিটাল সংযোগের আওতায় আনতে আগামী তিন বছরের মধ্যে টুজি নেটওয়ার্ক বন্ধের পথনকশা তৈরি করেছে বিটিআরসি। চলতি বছরের পর নতুন কোনো টুজি ফোনের মডেল অনুমোদন পাবে না। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর দেশে এ ফোনের উৎপাদন, আর জুনের পর বিক্রি নিষিদ্ধ হবে। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে টুজি সেবা বন্ধ হবে।
সরকার ইতোমধ্যে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পাঁচ হাজার টাকায় স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, ‘২০২৯ সালের ডিসেম্বরে টুজি সেবা বন্ধ করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে পরামর্শসহ তা সরকারের কাছে পাঠাবো।’
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমবে। টুজি তরঙ্গ ব্যবহার হবে ফোরজিতে। বিপুল গ্রাহককে ফোরজিতে আনতে পারলে ব্যবসাও বাড়বে তাদের।
এ ব্যাপারে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, ‘টুজি থেকে ফোরজি হলে আমরা স্পেকটার্ম এফিসিয়েন্সি বাড়াতে পারবো।’
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি টুজি থেকে ফোরজি করতে পারবো আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা আমাদের ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন অফসনাল।’
তবে টুজি থেকে ফোরজি হলে ধাক্কা খাবে দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদকরা। বর্তমানে বাজারে সস্তা স্মার্টফোনের দাম সাড়ে ৯ হাজার টাকা। ফিচার ফোন মেলে ৯৫০ টাকায়। ২০২৫ সালে দেশে তৈরি মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই ছিলো টুজি। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সময়েই, তা গত বছরের চেয়ে ১ শতাংশ বেড়েছে। এই বাজার বন্ধ হলে ধাক্কা খাবেন গ্রাহকরা।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, ‘দরিদ্র জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে ২জি থেকে ফোরজি নেটওয়ার্ক করার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া কতটা যৌক্তিক হবে সেটাই আমাদের উদ্বেগের বিষয়।’

