২০২৭ সালের শেষে সড়ক নিরাপত্তা আইনের পরিকল্পনা রয়েছে: মন্ত্রী
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড (দোতলা) সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধু সড়কের অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। যান চলাচলে শৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ, উপযুক্ত ও দক্ষ চালক এবং জনগণের সচেতনতাসহ সবকিছুই এর সঙ্গে জড়িত। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর উচ্চ হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
শেখ রবিউল আলম জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কৌশলও প্রণয়ন করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল দ্রুত পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সড়কে নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলো কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে শুধু নজরদারি বাড়িয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়; চালক, পরিবহন মালিক ও সাধারণ জনগণসহ সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কিছু অংশ ছয় লেনের এবং কিছু অংশ চার লেনের হলেও সেখানে যথাযথ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নেই। এ কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে তিন চাকার ধীরগতির যানবাহন মহাসড়কে উঠে আসছে। এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত আঞ্চলিক ও শাখা সড়কগুলোর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৬২ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরবর্তীতে পুরো ২৩২ কিলোমিটার পথ এলিভেটেড করার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চীনের কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) এবং সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের পাশাপাশি মহাসড়কের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
মতবিনিময়কালে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল হাইয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আব্দুল হাই ছিলেন একজন সাহসী, ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতা। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর মৃত্যু শুধু দলের জন্য নয়, মুন্সীগঞ্জবাসীর জন্যও এক অপূরণীয় ক্ষতি।’

