সিলেট সদরের দর্শায় কৃষি জমি রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি
সিলেট সদর উপজেলার ৮ নং কান্দিগাও ইউনিয়নের দর্শা এলাকায় অপরিকল্পিত খাল খননের নামে শত শত একর উর্বর কৃষি জমি নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী জানান, সরকারি অগ্রাধিকারভিত্তিক খাল খনন কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কৃষির উন্নয়ন হলেও স্থানীয় একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে এই প্রকল্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা সুরমা নদীর সমতল পাড় ঘেঁষে খাল খননের পায়তারা করছে, যা প্রায় ১০০ বছর আগে ভরাট হয়ে কৃষিজমিতে পরিণত হয়েছে। ২০০৩ সালের সর্বশেষ বিএস জরিপ অনুযায়ী, উক্ত জমির মালিকানা ও দখল স্থানীয় কৃষকদের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে এবং সেখানে কোনো সরকারি খাস জমি নেই।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, যেখানে খাল খননের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তার মাত্র ১ কিলোমিটার পশ্চিমে একটি পুরাতন খাল বিদ্যমান। ঐ খালটি সংস্কার করে মুখে একটি সুইসগেট নির্মাণ করলেই পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এছাড়া বর্তমানে বিএডিসি’র একটি সেচ প্রকল্প সক্রিয় থাকায় কৃষকরা অনায়াসে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় নতুন করে খাল খনন করা হলে শত শত একর উর্বর কৃষি জমি চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, যদি খাল খনন একান্তই প্রয়োজন হয়, তবে দর্শা ও ঘোপাল উত্তর মৌজার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে তা করা যেতে পারে, যেখানে স্থানীয় কৃষকদের কোনো ক্ষতি হবে না। তারা সরকারি অর্থ অপচয় ও কৃষি জমি ধ্বংসের এই নীল নকশা বাতিলের দাবি জানান।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রবীণ নেতা ছাদ খান, সার্ভেয়ার রফিক আহমেদ, জিয়াউর রহমান, ফারুক মিয়া, কৃষক নেতা আব্দুল হক, আনছার আলী, বাবুল মিয়া, আপ্তাব আলীসহ শতাধিক ভুক্তভোগী কৃষক।
এ সময় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অপরিকল্পিত প্রকল্প বাতিল এবং কৃষিজমি রক্ষার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। স্মারকলিপির সঙ্গে ভুক্তভোগী শতাধিক কৃষকের স্বাক্ষর সম্বলিত কপি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

