সদর দফতর পাচ্ছে র্যাব, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হবে ১১ তলা ভবন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জন্য ১১ তলা সদর দফতর ভবন নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকা। এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, বাহিনীটির নাম বদলে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি’ করার প্রক্রিয়া চলমান আছে।
নাম বদলাচ্ছে র্যাব, পুরো নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে এক বাহিনীর কাছেনাম বদলাচ্ছে র্যাব, পুরো নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে এক বাহিনীর কাছে
বৈঠক সূত্র জানায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ‘র্যাব ফোর্সেস সদর দফতর নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের প্রস্তাবটি কমিটির সামনে উপস্থাপন করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে গণপূর্ত অধিদফতর।
সদর দফতর ভবনের পূর্তকাজের জন্য ই-জিপির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মোট ১০টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ছয়টি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ওই প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৫ তলা ভিত্তির ওপর নির্মাণ করা হবে ১১ তলা র্যাব সদর দফতর ভবন। ভবনটিতে র্যাবের মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা থাকবে। নিচতলায় থাকবে গাড়ি পার্কিংসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা।
মূল সদর দফতর ভবনের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় আরও বেশ কিছু অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনতলা ম্যাগাজিন ও কোট ভবন, তিনতলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পাম্প ও জলাধার এবং গভীর নলকূপ।
এ ছাড়া পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, গাড়ি ধোয়ার ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সালামি মঞ্চ এবং প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
ভবনটিতে বহির্বৈদ্যুতিক সংযোগ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও স্থানীয় নেটওয়ার্কসহ আধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাও যুক্ত করার কথা রয়েছে।
পুরো প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাধ্যমে র্যাবের সদর দফতরের জন্য একটি আধুনিক, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

