দিরাইয়ের দুই কিশোরকে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতে বললেন প্রধানমন্ত্রী
গ্রামের কাদামাটির মাঠ থেকে উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে ফুটবলার হিসেবে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দুই কিশোর— সাইফ আহমেদ রিহাম (১৫) ও হোসাইন আহমেদ জিহাদ (১৪)। দেশব্যাপী প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর ফুটবল (বালক) বিভাগে চ্যাম্পিয়ন সিলেট দলের সদস্য হয়ে তাঁরা দিরাই ও সুনামগঞ্জের জন্য অভাবনীয় গৌরব বয়ে এনেছেন। তাঁদের এই সাফল্যকে সম্মান জানাতে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে দিরাই উপজেলা প্রশাসন।
রোববার (২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দুই উদীয়মান ফুটবলারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রিহাম ও জিহাদকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকার চেক এবং একটি করে ফুটবল প্রদান করা হয়।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’ ফুটবলের ফাইনালে ময়মনসিংহ অঞ্চলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে সিলেট অঞ্চল। এই বিজয়ী দলের অন্যতম দুই কারিগর ছিলেন দিরাই পৌর শহরের চন্ডিপুর গ্রামের রাজ উদ্দিনের ছেলে সাইফ আহমেদ রিহাম এবং ভরারগাঁও গ্রামের ছুবা মিয়ার ছেলে হোসাইন আহমেদ জিহাদ।
পুরস্কার বিতরণী শেষে দুই কিশোর ফুটবলার তাঁদের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাঁরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করেছেন এবং আরও ভালো খেলে একদিন জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতে বলেছেন। তাঁর সেই কথাগুলোই এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, হাওরাঞ্চলের কাদা-জলে বেড়ে ওঠা এই প্রতিভারা যথাযথ সুযোগ পেলে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে আসবে। রিহাম ও জিহাদ প্রমাণ করেছে, অভাব বা সুযোগের অভাব মেধার পথে বাধা হতে পারে না। উপজেলা প্রশাসন তাঁদের উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য সব সময় পাশে থাকবে।
জানা গেছে, রিহাম ও জিহাদ দুজনেই অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। রিহামের বাবা দিরাই বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা এবং জিহাদের বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। দিরাই ফুটবল একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের সহযোগিতায় তাঁরা উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নিজেদের নৈপুণ্য দেখিয়ে সিলেট বিভাগীয় দলে সুযোগ পান এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠক এবং দুই ফুটবলারের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকলে এই দুই কিশোর একদিন দেশের ফুটবল অঙ্গনে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলবেন।
