শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যান, এটা অনেকে চাননি: নাহিদ ইসলাম
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অনেকেই শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি চাইলেও রাষ্ট্রের ক্ষমতার কাঠামোগত পরিবর্তন চাননি। এমনকি শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়লেও দেশ ছেড়ে চলে যান এটিও অনেকে চাননি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসেবে টিকিয়ে রাখা। তবে দেশের জনগণ উপলব্ধি করেছে, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক নয়।
রোববার (০২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এসব কথা বলেন তিনি। আব্দুল্লাহ আল মাহথিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. ইসমাইল।
নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দলীয়করণ করা হয়েছে। নতুন সরকার এলেই যদি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়; তবে সেই সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না। কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে জনগণের মধ্যে যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সরকার যদি মানুষের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তাহলে সংকট আরও বাড়বে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ঐক্যের প্রধান শর্ত হলো ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা। এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে এনসিপি কাজ চালিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তি সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অন্যান্য জায়গার তুলনায় কিছুটা দূরে ছিল। জুন মাস থেকেই অনেকে আন্দোলনের দাঁড়িয়েছিল। আমি নিজেও হলে থাকার জন্য ছাত্রলীগ করতাম। আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের; তাদের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা সম্ভব ছিল না। আমি আলাওল হলে থাকতাম।
তালাত মাহমুদ আরও বলেন, একপর্যায়ে আমাকে আলাওল হলের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। আমাকে বিভিন্ন ট্যাগ দেওয়া হয়েছিল। তবে মোবাইল তল্লাশি করে কিছু না পাওয়ায় পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর আমরা শহরে আন্দোলন করার পরিকল্পনা করি। অনেক ক্যাম্পাস থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ অনেক আগেই সরে গেলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা ৫ আগস্ট বিকাল পর্যন্ত সেখানে ছিল।
এনসিপি যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সফট পাওয়ারকে সফট পাওয়ার দিয়েই মোকাবিলা করতে হবে। সাধারণের ছেলে দেশ নিয়ে কথা বলবে এটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। এক-এগারোর সময় যেমন রাজনীতিকে মাইনাস করার চেষ্টা হয়েছিল তখনকার একজন বলে ইউনূস সাহেব ছাত্রদের রাষ্ট্রক্ষমতার দিকে নিয়ে গেছেন। আমরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চাই বৈধ উপায়ে। এটা কোনো লোভ নয়। একটি দল চলে যাওয়ার পর তাদের নিয়ে অনেকে হাহাকার করছেন।
সারোয়ার আরও বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবীও এসব করছেন। আমাদের অবস্থানকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যে চুপ্পু জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে কটূক্তি করেছেন, তাকে তারা কীভাবে বিদায় দিল? আমাদের ছেলেদের চোখ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু যারা করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়নি। ছাত্রশক্তি করতে হলে এমন নয় যে সবাইকে রাজনৈতিক হতে হবে।

