জগন্নাথপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি
টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে অশ্রুসজল চোখে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটল সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলার কুশিয়ারা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে বিকেল ৫টা থেকে জগন্নাথপুর পৌর সদরের স্লুইসগেট এলাকায় নলজুর নদীর তীরে হাজারো ভক্ত-পূণ্যার্থীর উপস্থিতিতে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
ঢাক-ঢোল আর বাদ্যের তালে তালে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমাগুলো নদীর ঘাটে নিয়ে আসা হয়। বিসর্জনের সময় উৎসবের আনন্দের মাঝে নেমে আসে বিদায়ের বিষাদ। ভক্তদের চোখে ছিল অশ্রু, আর মুখে ছিল দেবী দুর্গার বন্দনা। শেষবারের মতো দেবীর আশীর্বাদ ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে পুণ্যার্থীরা নদীর পবিত্র জল গায়ে ছিটিয়ে নেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জগন্নাথপুর উপজেলায় মোট ৩৯টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩৬টি সর্বজনীন ও ৩টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ। এর মধ্যে উপজেলার সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ছিল জগন্নাথপুর আখড়াবাড়ী পূজামণ্ডপে, যেখানে বরাবরের মতো এবারও দর্শনার্থী ও ভক্তদের ঢল নামে।
উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ৩৯টি মণ্ডপের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১৪টিতে স্থায়ী পুলিশ মোতায়েন ছিল। প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করেন ৯ থেকে ১২ জন আনসার সদস্য। এছাড়া পুরো উপজেলায় পুলিশের ৬টি ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) দল সার্বক্ষণিক টহলে নিয়োজিত ছিল। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে পৌর পয়েন্ট ও চিলাউড়া পয়েন্টের চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি বিজন কুমার দেব ও সাধারণ সম্পাদক বিভাষ দেব বলেন, "দশমীর লগ্ন শুরু হওয়া মানেই দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনা। মা মর্ত্যে এসেছিলেন, তাই গত কয়েকটা দিন আনন্দে কেটেছে। আজ মায়ের বিদায়লগ্নে সবার মনেই বিষাদের সুর। মায়ের কাছে আমাদের একটাই প্রার্থনা—তিনি যেন সব অশুভ শক্তি দূর করে দেশ ও জাতিকে শান্তিময় রাখেন।"
