কানাইঘাটে চালক শাহাব উদ্দিন হত্যায় বাবা ও ৪ ছেলেসহ কারাগারে ৫
সিলেটের কানাইঘাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক শাহাব উদ্দিন (৩০) হত্যাকাণ্ডের মামলায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে ওই মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—উপজেলার ২ নম্বর লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের বাসিন্দা মজন আলী এবং তাঁর চার ছেলে মো. ইয়াহইয়া, জাকারিয়া, শাহরিয়ার ও কিবরিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে অটোরিকশায় যাত্রী ওঠানোর সিরিয়াল নিয়ে শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি সালিশ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সালিশের আগেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সোনাতনপুঞ্জি গ্রামে শাহাব উদ্দিনকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকাল ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত শাহাব উদ্দিন সোনাতনপুঞ্জি গ্রামের মৃত মতরিস আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় বুধবার নিহতের ভাই এনাম উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর দুপুরে স্থানীয় জনতা প্রধান অভিযুক্ত মজন আলী ও তাঁর চার ছেলেকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের হেফাজতে নেয়।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গাড়ির সিরিয়াল নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। নিহতের ভাইয়ের দায়ের করা হত্যা মামলায় আটক পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

