‘তোমার সমস্যা কী? অসুস্থ নাকি?’—সাংবাদিককে ধমক ট্রাম্পের
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আবারও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রশ্নের জবাব দেয়ার বদলে এক সাংবাদিককে ‘অসুস্থ’ বলে মন্তব্য করেছেন, আরেক নারী সাংবাদিককে বারবার থামিয়ে দিয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাম্পের আচরণ এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর) ওভাল অফিসে সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেয়ার নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করছিলেন ট্রাম্প। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানটি ঘিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।
ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট’র হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি অ্যান্ড্রু ফেইনবার্গ। নতুন জালিয়াতিবিরোধী কর্মসূচির পুরস্কারের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তিনি ওয়াশিংটনের ইস্ট পোটোম্যাক গলফ কোর্স সংস্কারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। তখনই তাকে থামিয়ে দেন ট্রাম্প।
ফেইনবার্গকে উদ্দেশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করো, চুপ করো, চুপ। তোমার সমস্যা কী? তুমি কি অসুস্থ? আমার তো সত্যিই মনে হচ্ছে, তোমার কোনো সমস্যা আছে।’
এর আগে সাংবাদিকের দিকে আঙুল তুলে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি জানি না তুমি কে, তবে তোমার সাবধানে থাকা উচিত।’
ফেইনবার্গের দাবি, ওই ঘটনার কয়েক মিনিট আগেই তিনি নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, সাংবাদিক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
নারী সাংবাদিককেও বারবার থামালেন
শুধু ফেইনবার্গ নন, প্রশ্ন করতে গিয়ে ট্রাম্পের বাধার মুখে পড়েন এক নারী সাংবাদিকও। তাকে থামাতে ট্রাম্প বলেন, ‘অপেক্ষা করো। শশশ… না, না, না। অপেক্ষা করো, অপেক্ষা করো।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। বিশেষ করে, সরকারের নতুন কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সাংবাদিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার বিষয়টি সমালোচকদের নজর কেড়েছে।
ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফেইনবার্গকে আক্রমণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। হোয়াইট হাউসের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও সাংবাদিককে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জো ওয়ালশ ট্রাম্পের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনেছেন। ওই সংশোধনীতে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান রয়েছে।
উদারপন্থি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মলি জং-ফাস্টও প্রশ্ন তুলেছেন, অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করলে প্রতিক্রিয়া কেমন হতো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ট্রাম্পের রাগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। কেউ কেউ সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ঘিরে অতীতে করা সমালোচনার সঙ্গে বর্তমান ঘটনাটির তুলনাও টেনেছেন।
যে কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
সাংবাদিকদের সঙ্গে এই বাদানুবাদের সূত্রপাত হয় সরকারি অর্থের অপচয় ও জালিয়াতির তথ্যদাতাদের পুরস্কার দেয়ার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কর্মসূচিটির জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতির তথ্য দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করলে তথ্যদাতারা সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার পেতে পারেন।
ফেইনবার্গের প্রশ্ন ছিল, বিদ্যমান মার্কিন আইনে তথ্যদাতাদের জন্য তুলনামূলক বেশি পুরস্কারের সুযোগ থাকলে নতুন কর্মসূচি তাদের কতটা আকৃষ্ট করবে? এ প্রশ্নের জবাব ঘিরেই প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

