হাদি হত্যা মামলার আসামির বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের
শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার সম্পদের বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে একটি মামলা করা হবে। এ ছাড়া জাল দরপত্র বিজ্ঞপ্তি তৈরি, টেন্ডার সিকিউরিটির অর্থ আত্মসাৎ এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে ফয়সালসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ ছাড়াও মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার দুই কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়াকে আসামি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগে বলা হয়েছে, জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে এর মাধ্যমে দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত করা হয়। পরে ওই যৌথ উদ্যোগের আওতায় টেন্ডারে অংশগ্রহণের কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাবদ ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার নেওয়া হয়।
জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। পরে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের নথিতে আরও বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দরপত্র বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে ইনডিড ক্লাউড বিডির হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সাল করিম মাসুদের নিজস্ব কোম্পানি এপল সফট আইটির হিসাবে জমা করা হয়। পরে তা তার নিজের নামে থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে নেওয়া হয়। সবশেষে ওই অর্থ তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বেনারশী পল্লী উপশাখায় এফডিআর হিসেবে জমা করা হয়।
এভাবে অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ও সহায়তা এবং অপরাধলব্ধ সম্পদ গ্রহণ, দখলে রাখা ও ভোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।
অন্যদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় পৃথক মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা প্রযোজ্য হবে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

