সিকৃবিতে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলীমুল ইসলামের পদত্যাগের একদফা দাবিতে প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। টানা বেশ কিছু দিন ধরে চলা এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবন সম্পূর্ণরূপে তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
৭ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত আন্দোলনকারী পক্ষ।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ক্রয় এবং অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর সব অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ উন্নয়নের বরাদ্দকৃত অর্থ ভিন্ন খাতে সরিয়ে আত্মসাৎ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধনের নামে ভর্তি পরীক্ষার আয় থেকে অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখা, বেতন বন্ধ করা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে বাধা দেওয়া এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে অস্থির করে তোলার অভিযোগ তোলেন তারা।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মো. ছিদ্দিকুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, উপাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক কার্যক্রমও কঠোরভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক, সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতাউর রহমান, প্রফেসর ড. মো. কাজী মেহতাজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. নাজমুল হক প্রমুখ।
এছাড়া জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি গাজী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নেয়ামত উল্যাহ, মো. বাসির উদ্দিন এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সানাউল হোসেন সনি, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম রাব্বানীসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

