রাতে পুকুরে বিষ, ভোরে জাল ফেলে মাছ লুটের অভিযোগ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণ শহর এলাকায় রাতের আঁধারে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। পরে জাল ফেলে প্রায় ১০০ মণ চাষ করা মাছ ধরে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিষের প্রভাবে প্রায় ১৫ মণ পোনা মাছ মারা গেছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মাছ চাষের দায়িত্বে থাকা মো. জাহিদুল ইসলাম সেলিম।
এ ঘটনায় নিমাই হলদারসহ অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৪০ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি। সোমবার বিকেলে থানায় অভিযোগটি করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ শহর এলাকায় ৪ দশমিক ৯৮ একর আয়তনের একটি পুকুর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেন মো. সারিউল ইসলামসহ কয়েকজন। পরে ওই পুকুরে মাছ চাষের দায়িত্ব নেন জাহিদুল ইসলাম সেলিম।
জাহিদুল ইসলামের অভিযোগ, ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৩টা ১০ মিনিট থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত নিমাই হলদারসহ ৩০ থেকে ৪০ জন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেন। এরপর কাপাজাল দিয়ে প্রায় ১০০ মণ মাছ ধরে নিয়ে যান তারা। এসব মাছের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ টাকা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষের প্রভাবে পুকুরের প্রায় ১৫ মণ পোনা মাছ মারা যায়। যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া আরও প্রায় ১০ মণ মাছ পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেগুলো ধরে নিয়ে যান। এসব মাছের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
মাছ লুট, পোনা মাছ মারা যাওয়া এবং স্থানীয় লোকজনের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়াসহ সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
জাহিদুল ইসলাম সেলিম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি পুকুরে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিমাই হলদার বলেন, ‘আমাদের একজনকে মাছ ধরার জন্য শ্রমিক হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।’
কে তাকে নিয়ে গিয়েছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে নাম ও মোবাইল নম্বর দেবেন বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

