ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে টাকা নেওয়া এনসিপির সেই নেত্রী কারাগারে
নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আটক হওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রীকে প্রতারণা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তাকে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. শাহ্ পরাণ এ নির্দেশ দেন। এ সময় অভিযুক্ত নেত্রীর পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিন আবেদন করেননি।
কারাগারে যাওয়া সাদিয়া ইসলাম (২২) সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। শহরের কুড়পাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন তিনি। সাদিয়া নেত্রকোনা সরকারি কলেজের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনা পৌর শহরের কুড়পাড় এলাকায় টাকা নিতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সাদিয়া ইসলামকে আটক করে পুলিশে দেন। পরে রাতে বলাইগুয়া এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নেত্রকোনা মডেল থানায় প্রতারণার মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে সাদিয়া ইসলাম কয়েকজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তিনি তাদের কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে আরও অন্যদের কাছ থেকে টাকা নিতে কুড়পাড় এলাকায় গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, ‘আমিসহ পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন সাদিয়া। মঙ্গলবার সকালে আমাকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেবেন বলে জানান। পরে বিকেলে আরেক মহিলার কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে দেন। তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাই বিচার পেতে মামলা করেছি।’
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু বলেন, ‘সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে- এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা এখনো হয়নি।’
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জেলা এনসিপির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। সাদিয়া চক্রান্তের শিকার হয়ে থাকতে পারেন এবং তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রও হতে পারে। তবে তিনি কোনো সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়া ইসলামকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি কুড়পাড় এলাকার প্রিয়া আক্তার, সুমি আক্তার, ইতি আক্তারসহ পাঁচজনের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এ ঘটনায় প্রিয়া আক্তার বাদী হয়ে প্রতারণার মামলা করেছেন। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা সাদিয়া স্বীকার করেছেন বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

