আজমিরীগঞ্জ কলেজ অধ্যক্ষকে আটকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শিক্ষক স্টাফ রুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আজমিরীগঞ্জ সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্টাফ রুম থেকে বের হয়ে থানায় যান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহজাহান সেক। তার অভিযোগ, কলেজের ফান্ড থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের নেওয়া টাকা পরিশোধ না করেই ‘কলেজের কোনো পাওনা নেই’ মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আজমিরীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সরকারি করা হয়। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়া শুরু করেন ২০২৩ সালে। এর আগে কলেজের সরকারি ফান্ড থেকে তারা বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন। সংশ্লিষ্টদের কাছে কলেজের পাওনা হিসেবে কারও কাছে প্রায় ৫ লাখ, কারও কাছে ৩ লাখ বা সাড়ে ৩ লাখ এবং অন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে প্রায় ২ লাখ টাকা করে পাওনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ১১ আগস্ট জারি করা সরকারি স্মারকে নতুন সরকারিকরণকৃত মহাবিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতাদির চাহিদা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই স্মারকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের কোনো পাওনা বা দায় অবশিষ্ট নেই—এ মর্মে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে নাম ও পদবিসহ প্রত্যয়নপত্র দাখিলের কথা বলা হয়। মিথ্যা তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কলেজ প্রধান দায়ী থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
অধ্যক্ষ শাহজাহান সেক বলেন, শিক্ষকরা বেশ কিছুদিন ধরে সরকারি ভাতা ও বেতন পাওয়ার জন্য কলেজের প্যাডে ‘কলেজ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি’ মর্মে স্বাক্ষর দিতে বলছিলেন। কিন্তু কলেজের ফান্ড তাদের কাছে টাকা পাবে বলে তিনি স্বাক্ষর দেননি।
তিনি অভিযোগ করেন, ৯ সেপ্টেম্বর তাকে শিক্ষক স্টাফ রুমে আটকে রেখে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তিনি প্রস্রাব করার কথা বলে সেখান থেকে বের হয়ে দৌড়ে থানায় যান। পরে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায়।
তবে কলেজের শিক্ষকরা অধ্যক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রভাষক বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তাদের বৈঠক একাদশ শ্রেণির ভর্তি ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সম্মানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চলছিল বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, অধ্যক্ষের সঙ্গে কোনো বিষয়ে মতবিনিময় করা যায় না।
প্রভাষক মানিক লাল চৌধুরী বলেন, শিক্ষকরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ দ্বিমত পোষণ করে চলে যান। জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
কলেজের শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীও অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আজমিরীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ পাল বলেন, অধ্যক্ষ থানায় আসার পর পুলিশ সদস্য দিয়ে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। পরে পুলিশ উপস্থিত থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করা হয়।

