সুনামগঞ্জের তিন যুবককে কাশ্মীরে পাচার, মুক্তিপণ দাবি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার তিন যুবককে ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার পর আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ জুলাই বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে যাওয়ার পর থেকে ওই তিন যুবকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় এক যুবকের মা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় এবং সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
নিখোঁজ তিন যুবক হলেন- ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া, একই গ্রামের মৃত রুসমত আলীর ছেলে আয়াছ আলী এবং জালিয়ারপাড় গ্রামের আনছার আলীর ছেলে আলাউদ্দিন। তারা সবাই দিনমজুর হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সোহেল মিয়ার মা মোছা. সামতেরা বেগমের অভিযোগ, একই গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল, আয়াছ ও আলাউদ্দিনকে ভারতের কাশ্মীরে ভালো বেতনে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাদের কথায় বিশ্বাস করে গত ২৮ জুলাই তিন যুবককে বাড়ি থেকে ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে সামতেরা বেগম বলেন, ভারতে যাওয়ার পর প্রথম দিকে তিন যুবকের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের যোগাযোগ ছিল। তবে কিছুদিন পর হঠাৎ করেই তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর ফারুক মিয়া ও তার ছেলে ফাহিম যুবকদের স্বজনদের জানান, তারা কারাগারে রয়েছেন এবং তাদের মুক্ত করতে টাকা প্রয়োজন।
প্রথমে তিন যুবককে মুক্ত করার কথা বলে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বজনরা ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার পরও পরে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন সামতেরা বেগম। টাকা না দিলে তিন যুবকের ক্ষতি বা তাদের হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় ছেলেসহ তিন যুবককে ভারতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সোহেলের মা। তিনি দ্রুত তিন যুবককে উদ্ধার করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ঘটনায় গত মাসের শেষদিকে ছাতক থানায় অভিযোগ করেন সামতেরা বেগম। পরে গত ৭ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সঙ্গেও দেখা করে তিন যুবককে উদ্ধারে সহযোগিতা চান সোহেলের মা।
অভিযোগের বিষয়ে ফারুক মিয়া বলেন, তার ছেলে ফাহিম বর্তমানে ভারতে রয়েছে। তবে তিনিও বর্তমানে ফাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
ছাতক থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত বলেন, তিন যুবককে কাজের উদ্দেশ্যে ভারতে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটকে রেখে টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

