ছাতকে চিকিৎসকের সিরিয়াল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত শতাধিক
সুনামগঞ্জের ছাতকে চিকিৎসকের চেম্বারে রোগী দেখানোর সিরিয়ালকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিসহ উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টানা ৩ ঘণ্টা ছাতক পৌরসভার হাসপাতাল রোড ও মোগলপাড়া এলাকায় এই সংঘাত চলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাতক পৌরসভার ট্রাফিক পয়েন্ট সংলগ্ন ‘দে ফার্মেসি’তে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. হেদায়েত হোসেন রোগী দেখছিলেন। সেখানে সিরিয়াল লেখাকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের সহকারী অনিক (১৭) ও চিকিৎসা নিতে আসা এক শিশুর মা মোগলপাড়া এলাকার তাহমিনা আক্তারের (৩২) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মন্ডলীভোগ ও মোগলপাড়া এলাকার বাসিন্দারা দেশীয় অস্ত্র, ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা, নারী-শিশু এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মঙ্গলপাড়া গ্রামের সাইম উদ্দিন (১৬) ও আল আমিন (২৯)-কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাসুম, শিমুল আহমদ, আবদুল আহাদ, সাজুসহ ৬১ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন ছাতক থানার এসআই রোমেন, এএসআই মাসুদ মিয়া, নায়েক সৌরভ পাল, কনস্টেবল ফয়সাল, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন এবং সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তাঁদেরকেও স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে ছাতক থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ঝলক মোহন্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মো. মোরছালিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক মোহন্ত জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
