সেই দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল
ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ নয়জনের প্রাণহানির পর দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন সাময়িক বাতিল করেছে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একইসঙ্গে এই দুই বাসের মালিক ও চালককে পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে শ্যামল সিলেটকে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশীদ।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুই বাসের চালক এবং মালিকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নিহত পরিবারগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শিগগিরই তাদের এ অর্থ দেওয়া হবে। শনিবার পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং আহতদের আবেদন ফরম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাদের আবেদনগুলোও যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে ৯০ দিনের মধ্যে সহায়তা দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিআরটিএর অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি মাঠে নেমেছে বলেও জানান সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে সুপারিশ ঢাকায় পাঠাবে।
অনুমোদন নেই স্লিপার বাসের
দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনকে দায়ী করা হচ্ছে। দ্রুতগামী স্লিপার বাসটি আরেকটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গিয়ে বিপরীতমুখী গাড়ির লাইনে এসে দুর্ঘটনা ঘটায়।
এ বিষয়ে বিআরটিএর কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বলেন, স্লিপার বাসের কোনো রোড পারমিট নেই। অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের সময় তাদের জরিমানা করা হয়। এরপরও এগুলো রাস্তায় চলাচল করছে। এটি বন্ধেও সুপারিশ রয়েছে। তবে, কবে কখন স্লিপার বাসকে জরিমানা করা হয়েছে-সে প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরের দয়ামীর খাসিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ইউনিক পরিবহনের সাত যাত্রী। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত ২৪ জনের মধ্যে ১৪ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

