৪ মাস মেলেনি সাপ্তাহিক ছুটি, নির্যাতনের অভিযোগে আত্মহত্যা নারীর
কর্মক্ষেত্রে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের মহীশূরে বিষাক্ত কীটনাশক পান করে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে লিখে যাওয়া চিরকুটে তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের নানা অভিযোগ করেছেন। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নিহত ওই নারীর নাম নাগেশ্বরী। তিনি হিনাকালের রিল্যায়েন্স মার্টে পিপিএমএস এজেন্সি নামের একটি বিপণন সংস্থার মাধ্যমে টাটা পণ্যের প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নাগেশ্বরীর পরিবারের সদস্যরা বলেছেন, নাগেশ্বরী গত ১৫ দিন ধরে চরম মানসিক অশান্তিতে ভুগছিলেন। কর্মক্ষেত্রে তাকে কীভাবে উত্ত্যক্ত ও কাজের পরিবেশ কঠিন করে তোলা হচ্ছিল, সে কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন তিনি।
আত্মহত্যার আগে লেখা চিরকুটে নাগেশ্বরী অভিযোগ করেন, যেসব বিষয়ে তার কোনো ভুল বা দায় ছিল না, সেসব নিয়েও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন এবং মানসিক নির্যাতন চালাতেন। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, গত চার মাস ধরে তাকে কোনো সাপ্তাহিক ছুটি দেওয়া হয়নি, এমনকি জরুরি প্রয়োজনেও ছুটি দেওয়া হতো না।
চিরকুটে তিনি লিখেছেন, এমন অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। চিরকুটে ‘ডলি’ নামের এক সুপারভাইজারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে নাগেশ্বরী লিখেছেন, তাদের অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনই তাকে এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।
নিহতের মা রত্নাম্মা তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সঠিক বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রত্নাম্মা বলেন, আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। ছোটখাটো বিষয়েও তারা তএক নানাভাবে কষ্ট দিত। গত ১৫ দিন ধরে আমার মেয়ে মানসিকভাবে একদম ভেঙে পড়েছিল। কর্মক্ষেত্রে কীভাবে তাকে হেনস্থা করা হচ্ছিল, সেসব সে আমাদের বলেছিল।
তিনি বলেন, আত্মহত্যা করার আগে সে ডলি নামের এক সুপারভাইজারের নাম লিখে গেছে। অবিরত নির্যাতন আর চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার কারণেই আমার মেয়ে এভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।
মহীশূরের এই ঘটনায় রাজ্য পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই নারীর মৃত্যুসহ কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের সব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি।

