মাধবপুরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ওসিসহ আহত শতাধিক
হবিগঞ্জের মাধবপুরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মাধবপুর থানার ওসিসহ শতাধিক আহত হয়েছে।
বুধবার (১৩ আগষ্ট) বিকেলে উপজেলার দক্ষিণ বুল্লা গ্রামের দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সৌদি আরবে সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে দুদলের সংঘর্ষে ওসি মো: সহিদ উল্ল্যাহ সহ শতাধিক আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সৌদি আরবে বুল্লা গ্রামের ধলাই মিয়ার ছেলে হারুন মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সৌদি বসবাসরত হেলাল মেম্বার এর গোষ্ঠীর লোকজনের ভিসা জটিলতা নিয়ে মারামারি হয়। এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বুল্লা ইউনিয়ন কুল্লা গ্রামের ধলাই মিয়া ও হেলাল মেম্বারের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন যাবৎ ধলাই মিয়া ও হেলাল মিয়ার মধ্যে গোষ্ঠীগত দ্বন্ধ চলে আসছিল।
এ ঘটনার জের ধরে বুধবার বিকেলে উভয় পক্ষের শতশত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে শতাধিক লোক আহত হয়।
খবর পেয়ে মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সহিদ উল্ল্যাহ'র নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওসি শহীদ উল্লাহ সহ ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন রাসেল মিয়া (১৮), রাশেদ মিয়া (১৮), বাবুল মিয়া (৬০), মন্নান মিয়া (২৭), ইছব মিয়া (৩৫), জালাল উদ্দিন (৩৫), শাহ আলম (৪০), ইউনুছ মিয়া (৬০), লিটন মিয়া (৩৫), রহমত উল্লাহ (২৪), জালাল মিয়া (২৬), সুন্দর আলী (৪২), নয়ন মিয়া (১৬), আদম খা (৩০), ফারুক মিয়া (৫০), শরীফ উদ্দিন (৫০), ছোয়াব মিয়া (৪০), ছায়েদুল (৪০), চুন্নু মিয়া (৫৫), জলফু মিয়া (৬১), শাকিল মিয়া (২০), শাহাব উদ্দিন (৫১), নুরুল হক (৫০), সাগর (১৬), পাবেল (২৪), দুলাল মিয়া (৪৫), রাশেদ মিয়া (১৫), মনটু মিয়া (৫০), মিরাজ মিয়া (২২), সোহরাব (৩৫) কে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মাধবপুর থানার ওসি মো: শহীদ উল্ল্যাহ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

