মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়নপত্রে মৃত ব্যক্তি ও চট্টগ্রামের ভোটারের সই!
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১১ জন প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে দলীয় প্রতীকে চারজন এবং অন্য সাতজন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে যাছাই-বাছাইকালে পাঁচ মেয়রপ্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। মনোনয়নপত্র বাতিল পাঁচজনই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী। অপর দুই স্বতন্ত্র ও দল মনোনীত চার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
ওইদিন নগরীর মেন্দিবাগ এলাকার জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিডেটের মিলনায়তনে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফয়সল কাদির মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের ঘোষণা শুরু করেন।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন সামছুন নুর তালুকদার, মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান খান, মাওলানা জাহিদ উদ্দিন, মো. শাহজাহান মিয়া এবং মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিজ এলাকার ৩০০ ভোটারের সই করা তালিকা জমা দিতে হয়। সেখান থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে কয়েকজন ভোটারের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে কোনো অসমাঞ্জস্যতা পাওয়া গেলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী সামছুনুর তালুকদারের ভোটার তথ্য যাচাই করে দু’জন মৃত ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া একজন ভোটার বলেছেন, তিনি সই করেননি। এ জন্য তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান খানের ভোটার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে একজন ভোটার বালাগঞ্জ উপজেলার এবং একজন ভোটার চট্টগ্রামের পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের ভোটার বলেছেন, তিনি সই করেননি।
আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ উদ্দিন চৌধুরীর ভোটার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে একজনকে সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরের পাওয়া গেছে। একজন বলেছেন যে তিনি সই করেননি। তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান মিয়া ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফার মনোনয়নপত্রে সম্পদের বিবরণী জমা দেননি। তাঁরা সর্বশেষ আয়কর দাখিলের বিবরণীর কপি জমা দেননি। এ জন্য তাঁদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
এ দিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র মেয়রপ্রার্থী মুস্তফা আহমেদ রউফ মোস্তফা বলেন, ‘আমি একজন প্রবাসী। এক সপ্তাহ আগে দেশে এসেছি। তাই আয়কর দেওয়ার সুযোগই ছিল না। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা), নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙল), হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), মো. জহিরুল আলম (জাকের পার্টি), মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (স্বতন্ত্র), মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (স্বতন্ত্র)।
সিলেট সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০২ সালে। ৭৯ দশমিক ৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই মহানগরীতে ওয়ার্ড ৪২টি। মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ এবং নারী ২ লাখ ৩২ হাজার ৮৪২ জন। মোট কেন্দ্র ১৯০টি এবং ভোটকক্ষ ১ হাজার ৩৬৪টি।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের ভোট। ২৩ মে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। ১ জুন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। ২ জুন প্রতীক বরাদ্দ শেষে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামতে পারবেন প্রার্থীরা।
