আনোয়ারের কর্মে মাথাব্যথা আরিফের!
সিলেট সিটি করপোরেশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই উঠোন বৈঠক, গণসংযোগ আর দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া সভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলরপ্রার্থীরা।তাদের নানামুখি তৎপরতায় ভোটের আমেজ আমেজ ছড়িয়েছে নগরীতে।যদিও এ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এ দু'টি দলের মেয়রপ্রার্থীরা অলি-গলি ঘুরে তাদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন ভোটারদের।দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত না হলেও বসে নেই জাতীয়পার্টির সম্ভাব্য দুই মেয়রপ্রার্থীও।
তারাও আগাম নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।তবে, দল থেকে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা এলেও ভোটের মাঠ ছাড়ছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা।কৌশলে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। বিশেষ করে বর্তমান মেয়র ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়টি খোলাসা না করলেও প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন।
যদিও আরিফের বক্তব্য 'মেয়র হিসেবে নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখভাল করা এটা তার রুটিন ওয়ার্ক।' নির্বাচনের বিষয়ে তিনি তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন ২০ মে। ওইদিন গনসমাবেশের মাধ্যমেই তিনি তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন।ফলে ২০ মের আগে তাঁরপ্রার্থীতা নিয়ে ধোয়াশা কাটছে না।
আরিফের বিষয়টি খোলানা না হলেও বসে নেই সাধারণ ৪২টি ও সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ভোটে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির শতাধিক নেতা।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর একা মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি ভোটারদেরকেও সিলেটকে একটি স্মার্ট নগরে পরিণত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। প্রতিদিন ভোটের মাঠে তার তৎপরতা মানুষকে দ্রুত কাছে টেনে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে মানুষ যখন অসহনীয় দুর্ভোগে ছিলেন ঠিক তখন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে তার এহেন কর্ম নগরবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
এছাড়া আরিফুল হক চৌধুরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মেয়রপ্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী খোলাসা বক্তব্য নগরবাসীর মধ্যে আলোচনার খোরাক জোগাচ্ছে। সরকারের দেওয়া অর্থ দিয়ে সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজ হলেও উন্নয়নের কৃতিত্ব যাচ্ছে আরিফুল হকের ভাণ্ডারে। এমন বক্তব্যও শোনা যাচ্ছে এখন ভোটের মাঠে।
যদিও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের মৃত্যু এবং তফসিল ঘোষণার আগে আওয়ামী লীগে প্রার্থীজট ও সঙ্কটের কারণে অনেকটা নির্ভার ছিলেন বিএনপির মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দল ছেড়ে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হলেও তাকে ঠেকানো যাবে না-এমনটিই ধারণা ছিল আরিফ ও তার অনুসারীদের।
কিন্তু নানামুখি কর্মকাণ্ড, তৎপরতার কারণে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীই বর্তমান সিসিক মেয়র বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছেন।এ কারণেই আরিফ ভোটের হিসেব কষছেন। ভোটে যাওয়া না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সময় নিচ্ছেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
তাদের মতে, আরিফ জানু খেলোয়াড়।ভোটের প্রস্তুতি তিনি নিয়েই রেখেছেন।মাঠ জরিপ করছেন।ভোটের পরিবেশ, পরিস্থিতি অনুকুলে আসলে তিনি ভোটে নামার ঘোষণা দেবেন। তখন আর দলের সিদ্ধান্তের দিকে তিনি তাকাবেন না।
