পতিত জমিতে গম ও সরিষা চাষ করে সাড়া ফেলেছেন মোহাম্মদ আলী
একজন মোহাম্মদ আলী। পেশায় ছিলেন কাঠ ব্যবসায়ী। এই ব্যবসায় সুনাম আছে তার। পরবর্তীতে তিনি পতিত জমিতে চাষাবাদের জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেন। এ ব্যাপারে তাকে স্থানীয় শুভাকাঙ্খীরা পরামর্শও প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি কানাইঘাট উপজেলার ৮নং জিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বেতকান্দি হাওর এলাকায় তার মালিকানাধীন ১৬ একর পতিত জমিকে চাষাবাদের উপযোগী করে বোরো ধান, গম ও সরিষা চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি তরমুজ, মিষ্টি লাউ, মরিচ, বেগুনের চাষ করেও তিনি সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখছেন।
এলাকায় প্রথমবারের মতো গম ও সরিষা চাষ শুরু করে কৃষকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন তিনি।
মোহাম্মদ আলীর এমন উদ্যোগ দেখে এলাকার অনেকেই উৎসাহী হয়ে উঠছেন। কারণ এসব এলাকায় কখনো গম বা সরিষার চাষ হয়নি। এলাকার মানুষ তার কৃষি ক্ষেত দেখতে প্রতিদিন আসছেন।
তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে।
জানা যায়, কৃষক মোহাম্মদ আলীকে একদিন তার গরুর খামারের এক কর্মচারী গম ও সরিষা চাষের পরামর্শ দেন এবং বলেন যে ধানের থেকে গম ও সরিষা চাষে লাভ বেশী। পাশাপাশি গমের ভ‚ষি ও সরিষার খৈল অনেক পুষ্টি সমৃদ্ধ গরুর খাবার। তার এই পরামর্শেই কৃষক মোহাম্মদ আলী গম ও সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি সিলেট নগরীর একটি বীজঘর থেকে গম ও সরিষার বীজ সংগ্রহ করেন।
কানাইঘাট উপজেলার ৮নং জিঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বেতকান্দি হাওর এলাকায় তার মালিকানাধীন ১৬ একর পতিত জমিকে চাষাবাদের উপযোগী করে তুলেন। পরে ১০ বিঘা জমিতে প্রাথমিকভাবে গম ও সরিষার চাষ করেন। বাকী জায়গাগুলোতে তিনি ধান, তরমুজ, মিষ্টি লাউ, মরিচ, বেগুনের চাষ করেন।
সব ফসল ঠিক থাকলেও গমের চারাগুলো প্রথমে লাল হয়ে গিয়েছিল। লাল হওয়ার পর গম নিয়ে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তিনি কানাইঘাটের কৃষি কর্মকর্তার স্মরণাপন্ন হন। কিন্তু সেখান থেকে তিনি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। পরে তিনি যে দোকান থেকে বীজ কিনেছিলেন সে দোকানের মালিকের পরামর্শে ঔষধ ব্যবহার করেন।
বর্তমানে তিনি তার ক্ষেতের মরিচ, বেগুন, মিষ্টিলাউ বিক্রিও করতে পারছেন। তবে কৃষক মোহাম্মদ আলী দুশ্চিন্তায় আছেন গম ও সরিষা নিয়ে। কারণ গম ও সরিষা ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে।
১৬ একর জায়াগায়জুড়ে চাষাবাদ করতে কৃষক মোহম্মদ আলী প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তবে তিনি আশা করছেন সবকিছু ঠিকটাক থাকলে ১১ লাখ টাকার মতো ফসল উৎপাদন হবে।
কৃষক মোহাম্মদ আলীর চাষাবাদকৃত জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ধান, গম ও বিভিন্ন ধরনের সবজির সমারোহ। ফসলের মাঠে সবুজ আর সোনালী মিশেলের ধান, গম ও বিভিন্ন ধরনের সবজি নজর কাড়বে যে কারও।
স্থানীয় কৃষক মিন্নত মিয়া জানান, আমাদের এলাকায় এর আগে কখনো কেউ গম ও সরিষার চাষ করেননি। তার গম ও সরিষার ক্ষেত দেখে এসেছি। শুনেছি গম ও সরিষা চাষ করলে নাকি অনেক লাভবান হওয়া যায়। আমার ইচ্ছে আছে আগামীতে ধানের পাশপাশি গম ও সরিষা চাষ করার।
কৃষক মোহমা¥দ আলী বলেন, ‘এক ইঞ্চি জমি অনাবাদী থাকবেনা’ প্রধানমন্ত্রীর এই আহŸানে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি চাষাবাদে মনযোগী হয়েছেন। আমি প্রথমবারের মতো এই এলাকায় গম ও সরিষার চাষ করেছি। কোন সময় ক্ষেতে কোন ঔষধ ব্যবহার করবেন তা নিয়ে তিনি চিন্তিত আছেন। তাই তিনি তাকে সহযোগিতা করার জন্য কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কানাইঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, কৃষক মোহাম্মদ আলীর এই ক্ষেতের কথা আমাদের জানা নেই। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সবধরনের সহযোগিতা করব।
