নবীগঞ্জে থানা হাজতে ভিডিও ধারণের জেরে ২ পুলিশ ক্লোজড, সহযোগী গ্রেফতার
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানা হাজতে (লকআপ) থাকা অবস্থায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের এক আসামির ভিডিও গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তাঁর সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সাথে থানার সুরক্ষিত ও স্পর্শকাতর স্থানে এমন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে তৎকালীন ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং এক নারী কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সহযোগীর নাম শাহ জুয়েল। তিনি নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের উমরপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও থানা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা শাহ তপুকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাঁকে নবীগঞ্জ থানার হাজতখানায় রাখা হয়। এ খবর পেয়ে তপুর সহযোগী শাহ জুয়েল গোপনে থানার ভেতরে প্রবেশ করেন এবং লকাপের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তপুর একটি ভিডিও বার্তা মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পরপরই নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে শাহ জুয়েলকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর তাঁর ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জব্দ করা হয়। ফোনে ধারণকৃত ভিডিওটির মূল ক্লিপসহ সংশ্লিষ্ট আলামত মেলায় জুয়েলকেও তপুর সঙ্গে একই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে, থানার হাজতখানার মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় একজন বহিরাগত কীভাবে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করে মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করল—তা নিয়ে পুলিশের অভ্যন্তরেই তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্বে গাফিলতির সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলায় ঘটনার সময়ে দায়িত্ব পালনকারী ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল আফসানা আক্তারকে নবীগঞ্জ থানা থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, থানার হাজতখানার মতো স্থানে বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ করা সুস্পষ্ট বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ঘটনায় মূল সহযোগীকে মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে চরম অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট ডিউটি অফিসার এসআই মেহেদী হাসান ও কনস্টেবল আফসানাকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

