কমলগঞ্জে রিসোর্টের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ
বিপথগামী হচ্ছে স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের উসমানগড়ে ‘লন্ডন রিসোর্ট পার্ক অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’-এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবদল নেতার প্রত্যক্ষ মদদ ও হস্তক্ষেপে এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে রিসোর্ট পরিচালনাকারীর কাছ থেকে ওই নেতার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ভিডিও ফাঁসের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
এদিকে রিসোর্টের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার শঙ্কায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পতনঊষারের উসমানগড়ে কুলাউড়া সড়ক ঘেঁষে ২০২৩ সালে লন্ডন প্রবাসী মোস্তফা মিয়া ‘লন্ডন রিসোর্ট পার্ক অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’ গড়ে তোলেন। মালিক প্রবাসে থাকায় রিসোর্টটি ভাড়ায় পরিচালনা করা হতো। রিসোর্টটি চালুর পর ২০২৪ সালে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন পরিচালনাকারী গিয়াস মিয়া ও মুহিত নামের দুজনকে আটক করে যৌথবাহিনী। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
পরবর্তীতে রিসোর্টটি পরিচালনার দায়িত্ব নেন মির্জা আহমেদ নামের এক ব্যবসায়ী। তবে তাঁর সময়েও স্থানীয়ভাবে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠে। মির্জা আহমেদের দাবি, পতনঊষার ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজ খান নিয়মিত আর্থিক সুবিধা দাবি করতে থাকেন। চাঁদার চাপে অতিষ্ঠ হয়ে ১৮ বছরের চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মাত্র দেড় বছরের মাথায় তিনি রিসোর্টটির দায়িত্ব ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাবেক পরিচালক মির্জা আহমেদ বলেন, আমি লন্ডন প্রবাসী মোস্তফার কাছ থেকে ১৮ বছরের চুক্তিতে রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিলাম। ব্যবসা চলাকালে কমলগঞ্জ উপজেলার যুবদল নেতা আব্দুল আহাদ ও স্থানীয় মেম্বার সিরাজ খান মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। তাঁরা স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কিছুদিন সুবিধা দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে নিলেও তাঁদের দৌরাত্ম্যে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা ছেড়ে চলে আসতে বাধ্য হই। বর্তমানে আব্দুল আহাদের মাধ্যমেই রিসোর্টটি পরিচালিত হচ্ছে।
রিসোর্টের বর্তমান কেয়ারটেকার নুরুল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, প্রবাসী মোস্তফার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে প্রথমে মির্জা আহমেদ ও আব্দুল আহাদ রিসোর্টটি চালাতেন। বর্তমানে আব্দুল আহাদ ও অপর এক পার্টনার যৌথভাবে এটি পরিচালনা করছেন। তবে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, এখানে খারাপ কোনো কাজ হয় না। মাঝে মাঝে সাধারণ মানুষ পরিবার নিয়ে আসেন এবং অবস্থান করেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রিসোর্ট ব্যবসার নাম ভাঙিয়ে আড়ালে নিয়মিত অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। প্রভাবশালী ওই যুবদল নেতার ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না। এর ফলে স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় দেখা দিচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে পতনঊষার ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে মির্জার সময়ে এখানে কিছু অনৈতিক কাজকর্ম হতো। সে কারণেই মির্জাকে এখান থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ চলে না। আমরা শুধু বিয়ে ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য এটি পরিচালনা করছি।
এছাড়া কারও কাছ থেকে টাকা দাবির অভিযোগটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় দুই মাস আগে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। বর্তমানে এমন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে রিসোর্টটির সার্বিক গতিবিধির ওপর পুলিশের বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
