মক্কায় হামলার চেষ্টা, ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে: পাকিস্তান
পবিত্র মক্কা নগরীর কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, মক্কা চুক্তি পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য এবং দেশটি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে মক্কাসহ পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য আলাদা করে কোনো চুক্তি থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মক্কা চুক্তি আমাদের জন্য প্রযোজ্য এবং আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব’। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করতে পারবেন না বলেও জানান।
খাজা আসিফ বলেন, পবিত্র স্থানগুলো রক্ষায় পাকিস্তানের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। মক্কা চুক্তি না থাকলেও এসব পবিত্র স্থান রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘মক্কায় হামলা হলে সেটিকে রক্ষার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।’
এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কা নগরীর আকাশসীমার নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের আগেই সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্রের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় দফায় হামলার চেষ্টা বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পবিত্র এই নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার কথা অস্বীকার করেছে ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আমাদের অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে। আর সেগুলো পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে।’
এদিকে মক্কায় হামলার চেষ্টার অভিযোগের মধ্যেই বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ রয়েছে।
একইসঙ্গে পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টাকে ‘জঘন্য ও ন্যক্কারজনক’ বলেও নিন্দা জানান শেহবাজ শরিফ। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়ানোর আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি এরই মধ্যে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। শান্তির জন্য আলোচনা ও কূটনীতিই টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ।
জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ বলেন, তিন দেশ তথা পাকিস্তান, সৌদি ও তুরস্কের যেকোনো একটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা সীমানা লঙ্ঘিত হলে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে মক্কা চুক্তিতে। এই চুক্তি কখন প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে ‘একেবারেই কোনো অস্পষ্টতা নেই’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিরক্ষা বা সামরিক কৌশলের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করবে না পাকিস্তান। তবে ইসলামাবাদ চুক্তিটির আওতায় রয়েছে এবং (পাকিস্তান) নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে বলে আবারও জানান তিনি।
এছাড়া হুতিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের মধ্যে রিয়াদের একটি বার্তা ইরানের কাছে পাকিস্তান পৌঁছে দিয়েছে বলেও জানান খাজা আসিফ। তিনি বলেন, ইরান রাষ্ট্র হিসেবে এমনভাবে হুতিদের সমর্থন করবে বলে তিনি মনে করেন না, যার ফলে অঞ্চলটিতে নতুন করে আরেকটি সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হবে।
খাজা আসিফ বলেন, ‘আমি মনে করি না, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আরেকটি সংঘাতের ক্ষেত্র খুলবে’। তার মতে, তেহরান এরই মধ্যে অঞ্চলটির একটি সংঘাতে জড়িয়ে রয়েছে। তিনি ইরানি রাষ্ট্রের সঙ্গে অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীগুলোর অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের গোষ্ঠী কোনো রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা সমর্থনের অপেক্ষা না করেই নিজেদের মতো করে কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।
খাজা আসিফ বলেন, হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাতে ইরান কোনো পক্ষ নিলে তা তেহরানের জন্য বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না বলে তিনি মনে করেন। এর পেছনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়টিও রয়েছে। এছাড়া সংঘাত যাতে নতুন কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় খাজা আসিফ বলেন, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি এমন একটি ব্যবস্থা, যা এই তিনটি দেশ নিজেদের নিরাপত্তার প্রয়োজন বিবেচনা করতে গিয়ে গড়ে তুলেছে।

