নবীগঞ্জে কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামে অর্ধশত বছরের পুরনো ও ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র এই স্থানের সুরক্ষায় প্রবাসীদের নেওয়া মহৎ উদ্যোগে অহেতুক বাধা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোয় স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুরহানপুর গ্রামের মানিকপুর মৌজার জেএল নং ৪৬, খতিয়ান নং ১৯ এবং দাগ নং ৬৪১, ৬৪২ ও ১০৪-এর রেকর্ডীয় মালিকানাধীন ভূমিতে প্রায় হাজারো মৃতদেহ সমাহিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো এই কবরস্থানে একটি মাজারও রয়েছে। কবরস্থানটির তিন দিকে আংশিক প্রাচীর থাকলেও বুরহানপুর-বান্দের বাজার সড়কের পাশের অংশটি অরক্ষিত ছিল। ফলে গবাদি পশু অবাধে বিচরণ করে কবরস্থানের পবিত্রতা নষ্ট করছিল এবং মানুষও অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাতায়াত করত।
পবিত্রতা রক্ষায় বুরহানপুর গ্রামের মরহুম আলফাছ মিয়ার প্রবাসী সন্তান আজিজুর রহমান, হাফিজুর রহমান, ফয়জুর রহমান, মফিজুর রহমান ও খালিদুর রহমান নিজ উদ্যোগে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এছাড়া কবরস্থানের পাশের জলাশয়টিকে সংস্কার করে মুসল্লিদের জন্য একটি আধুনিক অজুখানা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।
তবে গ্রামের মেহের আহমদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি মহল এই উন্নয়নমূলক কাজকে ‘ভূমি দখল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, মেহের আহমদ এলাকার অন্যান্য ভালো কাজেও অতীতে বাধা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাকির হোসেন বলেন, যাঁরা বাধা দিচ্ছেন, তাঁদের আত্মীয়স্বজনও এই কবরস্থানে সমাহিত। মালিকানাধীন ভূমি হওয়া সত্ত্বেও আমরা সবার জন্য এটি উন্মুক্ত রেখেছি। অহেতুক গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় একটি মহৎ কাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
ভূমি মালিকের উত্তরাধিকারী তারেক রহমান বলেন, এই জমি আমাদের রেকর্ডীয় মালিকানাধীন এবং আমরা এখানে কাউকে সমাহিত করতে কোনো বাধা দিই না। কিন্তু ভালো কাজে এমন বাধা প্রবাসীদের নিরুৎসাহিত করবে।
এ ঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং বিষয়টি সমাধানের জন্য নবীগঞ্জ থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে থানায় তলব করলেও অভিযোগকারী পক্ষ সেখানে উপস্থিত হয়নি বলে জানা গেছে।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ নজর রাখছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

