দুর্যোগ তহবিলে এক মাসের বেতন দেবেন মন্ত্রীরা
হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ তহবিলে এক মাসের বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নেপালের মন্ত্রীরা।
শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নেপালি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পুনর্বাসনে একটি বিশেষ প্যাকেজ তৈরির নির্দেশও দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্থ মন্ত্রণালয়কে এই প্যাকেজ প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে রসুওয়াগাড়ি, ভোতে কোশি নদী এলাকা এবং এর নিম্নাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নেপাল পুলিশ শুক্রবার সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন।
এতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত চিতওয়ান জেলায় ২২১টি এবং নওয়ালপরাসি ইস্ট জেলায় ১৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
চিতওয়ানের জেলা কর্মকর্তা গণেশ আরিয়াল বলেছেন, অনেক মরদেহের অবস্থা ভালো নয়। স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে জায়গা না থাকায় মরদেহ রাখার জন্য একটি সরকারি ভবন নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৪৭৩ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। নিহতদের বেশির ভাগের মরদেহ বন্যার পানিতে ভেসে দূরবর্তী এলাকায় চলে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর নেপাল প্রতিনিধিদলের প্রধান ডেভিড ফিশার বলেছেন, বন্যায় প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন।
একই সঙ্গে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
ফিশার বলেছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় দফার বন্যা নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’ জরুরি জীবনরক্ষাকারী তৎপরতায় সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রস ২ কোটি ৫০ লাখ সুইস ফ্রাঁর জরুরি তহবিল চেয়েছে।
উদ্ধার ও মরদেহ খোঁজার কাজ আরও জোরদার করেছে নেপাল সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, রসুয়া থেকে চিতওয়ান পর্যন্ত নদীর তীর এবং বন্যাকবলিত সম্ভাব্য সব এলাকায় ১ হাজার ২০০ সদস্যের একটি অতিরিক্ত দল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবল স্রোত ও দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্যেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র : বিবিসি

