জৈন্তাপুরে প্রস্তাবিত পৌরসভা বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
সিলেটের জৈন্তাপুরে ভুল তথ্য ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রস্তাবিত পৌরসভা গঠনের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সচেতন নাগরিক ফোরাম’। এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-২০০৯ এর পরিপন্থী এবং বাস্তবতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে এটি অনতিবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এলাকার নাগরিকরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকাল ৫টায় জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক মো. জালাল উদ্দিন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৪ জুলাই ২০২৬ইং (প্রস্তাবিত তারিখ অনুযায়ী) সরকার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ১২টি মৌজা নিয়ে জৈন্তাপুর পৌরসভার গেজেট প্রকাশ করে। তবে নাগরিক সমাজের দাবি, এই অঞ্চলটি এখনো পৌরসভা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুল ও মনগড়া তথ্য উপস্থাপন করে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পৌরসভা আইন-২০০৯ এর বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, আইন অনুযায়ী পৌরসভা গঠনের জন্য প্রস্তাবিত এলাকায় অন্তত ৭৫ শতাংশ মানুষকে অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকতে হয়। কিন্তু বাস্তবে এই ১২টি মৌজার ৬০-৭০ শতাংশ মানুষই কৃষি ও মৎস্যজীবী। এছাড়া দিনমজুর ও বালু শ্রমিকের সংখ্যাই এখানে বেশি। অকৃষি জমির পরিমাণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের তথ্য বিকৃতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলা হয়, নিজপাট ইউনিয়নে অকৃষি জমি মাত্র ৮.৯৫% এবং ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নে ২৭.০৪%, যা আইনত প্রয়োজনীয় ৩৩% এর চেয়ে অনেক কম। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে অকৃষি জমির পরিমাণ ভুলভাবে ৭৫% উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী পৌরসভার জনসংখ্যা নূন্যতম ৫০ হাজার হওয়ার বিধান থাকলেও ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী প্রস্তাবিত ১২টি মৌজার জনসংখ্যা মাত্র ২৬,৮৫১ জন। যা পৌরসভার জন্য নির্ধারিত সীমার প্রায় অর্ধেক। লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়, দুই ইউনিয়নের মোট ৭১ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ১২টি মৌজায় যদি ৫০ হাজার দেখানো হয়, তবে অবশিষ্ট ৩৬টি মৌজার জনসংখ্যা মাত্র ২১ হাজার হওয়া কীভাবে সম্ভব? এটি স্পষ্টতই একটি মিথ্যা তথ্য।
নাগরিক ফোরামের নেতারা জানান, প্রস্তাবিত এলাকার ৩টি মৌজা (কেন্দ্রী হাওর, ডিবির হাওর ও বিরাইমারা হাওর) সরকারিভাবেই হাওর হিসেবে স্বীকৃত। এসব এলাকার মানুষ মূলত কৃষি ও মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। কোনো শিল্প-কারখানা বা উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছাড়াই কৃষকদের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দিতেই এই পৌরসভা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে সংশ্লিষ্ট মৌজাগুলোর হাজার হাজার মানুষের গণস্বাক্ষরিত আপত্তি পত্র সিলেট জেলা প্রশাসকের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো পৌরসভা তারা চান না। তারা বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ পদ্ধতিতেই সন্তুষ্ট আছেন। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, অনতিবিলম্বে মাঠ পর্যায়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বুরহান আহমেদ, সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম সরকার এবং সদস্য কামাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

