বড় বড় গর্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা
সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশের অন্তত ১০টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সড়কের ১৩ কিলোমিটার ঘুরে দেখা যায়, তকিপুর এলাকায় প্রায় ১শ ফুট সড়কজুড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাওয়া পরিত্যক্ত পুলিশ বক্সের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রায় আরও দেড়শ ফুট এলাকাজুড়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর গর্ত। এছাড়া সুফিনগর, তাজপুর, হাস-নাবাদ, মাধবপুর, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর, পৌরসভা প্রবেশের সেতু এলাকা এবং রহমতবাগসহ অন্তত ১০টি স্থানে সড়কের বেহাল চিত্র দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঝাওয়া থেকে তাজপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসনাবাদ থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ধসে গিয়ে পানির ঢেউ এর আকার ধারণ করেছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে
পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নিয়মিত যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
একাধিক পরিবহন চালকরা জানান, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো একাধিক দূর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমদ বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
বর্তমানে সড়কের একাধিক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বড় ধরণের দূর্ঘটনা থেকে বাঁচতে সড়কটির ভাঙা ও গর্তের অংশগুলো দ্রুত সংস্কারের আওতায় আনতে হবে।
সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ছাতক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদাৎ হোসেন।
