যা আছে জুলাই জাদুঘরে
বিগত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য ও প্রতীকী কবর-সব মিলিয়ে ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হয়ে উঠেছে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই জাদুঘর’।
বুধবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই জাদুঘর প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ এসেছেন নতুন জাদুঘরটি একনজর দেখতে, কেউবা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও দর্শনার্থীদের আগ্রহে ছিল না কোনো ভাটা।
জুলাই জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুর রহমান।
তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যবহৃত বিভিন্ন কক্ষ সংরক্ষণ করে সেখানে বিগত সময়ের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনার স্মারক, আলোকচিত্র ও দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং দীর্ঘ সময়ের গুম-নির্যাতনের নানা তথ্যচিত্র স্থান পেয়েছে।
দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিও।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর। আন্দোলনের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তও ভাস্কর্যের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে।
নোয়াখালীর বাসিন্দা আবু জাকের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। পঙ্গু হাসপাতালে যাওয়ার পথে জুলাই জাদুঘর উদ্বোধনের খবর পেয়ে চলে আসেন গণভবনের সামনে।
তিনি বলেন, এখানে অনেক মানুষ আসছে, দেখতে ভালো লাগছে। মানুষজন কীভাবে আসা-যাওয়া করছে, সেটাই দেখছি।
চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকা কিশোরগঞ্জের নূরে আলম এসেছেন জাদুঘরটি ঘুরে দেখতে এবং প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার আশায়।
তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘরে কী আছে, তা দেখতে এসেছি। শুনেছি আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসবেন, তাই তাকে দেখার ইচ্ছা থেকেই এখানে দাঁড়িয়ে আছি।
ঐতিহাসিক এই আয়োজনের সাক্ষী হতে এসেছে শিক্ষার্থীরাও। মোহাম্মদপুর গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদও উপস্থিত হয় শেরেবাংলা নগরে।
নাসিম বলে, আজ আমাদের স্কুলে ৫ আগস্ট উপলক্ষে অনুষ্ঠান ছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর আজ জুলাই জাদুঘর উদ্বোধন হচ্ছে। তাই একনজর দেখতে এসেছি।
সে জানায়, তার বন্ধু শহীদ আহনাফের ভাই আরভিন জাদুঘরের ভেতরে গেছে। তাদের অভিজ্ঞতা জানার পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখার আগ্রহ থেকেই তার আসা।
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিল ও স্মারক ঘিরে ছিল দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ। ইতিহাসের নানা অধ্যায় কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
২০২৪ সালে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে ওই বছরের আজকের দিনে (৫ আগস্ট)। সেদিন ছাত্র-জনতার প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

