মাধবপুরে সওজের জমি দখল করে চলাচলের পথ বন্ধের অভিযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মোহনপুর মৌজায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি অবৈধভাবে দখল করে একটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সওজ বিভাগ থেকে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়ে তা কার্যকর না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার উত্তর সুরমা (গউছনগর) গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান মিয়া মোহনপুর মৌজার নিজ মালিকানাধীন জমিতে বসতঘর ও দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। তাঁর মালিকানাধীন ৪৫৭ ও ৫১৫ নম্বর দাগের জমিতে যাতায়াতের জন্য সওজ বিভাগের ৫৮২ নম্বর দাগের প্রায় ১৫ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় শাহজাহান মিয়ার পরিবারের চলাচলের পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে শাহজাহান মিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বিকল্প কোনো পথ না থাকায় তিনি সওজের ওই জমিটি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বন্দোবস্ত নিতেও আগ্রহী।
ভুক্তভোগীর আবেদনের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন গত ১৩ জুলাই অবৈধ দখলদারদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ প্রদান করেন। তবে নোটিশ জারির দীর্ঘ সময় পার হলেও দখলদাররা কোনো কর্ণপাত করেননি এবং সওজ বিভাগ থেকেও কোনো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
দখলদারদের দাবি, তাঁরা সওজের জায়গা দখল করেছেন কিন্তু কারও ব্যক্তিগত জায়গা দখল করেননি। তাদের ভাষ্যমতে, মাধবপুর উপজেলায় সওজের প্রায় শত কোটি টাকার জমি দখল হয়ে আছে; উচ্ছেদ করলে সবাইকে করতে হবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন জানান, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য বড় অংকের বাজেটের প্রয়োজন হয়। সামনে ছয় লেনের রাস্তার কাজের জন্য সরকারিভাবে বাজেট আসবে। তখন বড় পরিসরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে এই এলাকাসহ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
আপাতত উচ্ছেদ কার্যক্রম থমকে থাকায় এবং একমাত্র পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি মানবেতর জীবনযাপন করছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
