লাউয়াছড়ায় বিরল প্রজাতির ‘উল্টোলেজি’ বানরের অবাধ বিচরণ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেখা মিলল মহাবিপন্ন ও বিরল প্রজাতির ‘উল্টোলেজি’ বানরের। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে উদ্যানের ভেতর দিয়ে যাওয়া আখাউড়া-সিলেট রেলপথ এলাকায় একদল বিরল বানরকে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিমায় বিচরণ করতে দেখা যায়। শান্ত পরিবেশে এই দুর্লভ প্রাণীদের অবাধ উপস্থিতি উদ্যানের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের এক নতুন জানান দিচ্ছে।
স্থানীয়দের কাছে এই প্রজাতির বানর ‘কেশরওয়ালা সিংহ বানর’, ‘কুলু বান্দর’ বা ‘উলু বান্দর’ নামে পরিচিত হলেও লেজ শুকরের মতো পিঠের দিকে বাঁকানো থাকায় বাংলায় একে ‘উল্টোলেজি বানর’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম ‘Northern pig-tailed macaque’। মঙ্গলবার সকালে এদের দলবেঁধে রেললাইন পার হতে দেখে উদ্যানে আসা পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা মুগ্ধ হন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, সাধারণত ২০ থেকে ২৫টির ছোট-বড় সামাজিক দল নিয়ে এরা গভীর বনে বাস করে। খাবারের তালিকায় এদের পছন্দ বনের বিভিন্ন ফলমূল ও কচি পাতা। লাউয়াছড়া ছাড়াও হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এবং রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে এদের কিছুটা উপস্থিতি রয়েছে। আইইউসিএন (IUCN)-এর তথ্যমতে, বৈশ্বিকভাবে এই প্রজাতিটি ‘সংকটাপন্ন’ (Vulnerable) হিসেবে চিহ্নিত এবং বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এটি একটি সংরক্ষিত প্রাণী।
রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানান, লাউয়াছড়ায় এই অতিসংকটাপন্ন প্রজাতির বানরের একটি দল বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে তাদের গতিবিধি নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাদের খাদ্যসংস্থান নিশ্চিত করতে উদ্যানে ফলদ চারা রোপণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে লাউয়াছড়া বনকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। এই উদ্যানে ৪৬০ প্রজাতির জীববৈচিত্র্যের মধ্যে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর বসবাস রয়েছে। বনের গহীনে বিরল এই উল্টোলেজি বানরের উপস্থিতি উদ্যানের জীববৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তবে বনের ভেতর দিয়ে ট্রেন চলাচলে সচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে এই বিপন্ন প্রাণীরা নিরাপদে টিকে থাকবে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।
