১৮ ঘণ্টা পর উড়াল দিল সিলেটে আটকে পড়া ফ্লাইট
দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা পর আটকে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহুল প্রতীক্ষিত ফ্লাইটটি (বিজি-২৩৫) সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের পর বোয়িং ৭৭৭ মডেলের উড়োজাহাজটি মঙ্গলবার বিকালে সিলেট থেকে উড্ডয়ন করে ঢাকা হয়ে নির্ধারিত গন্তব্য সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে সিলেট থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে উড্ডয়নের জন্য বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি রানওয়েতে ট্যাক্সি করে। তবে উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে রানওয়েতে থাকাকালীন উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পাইলট বিমানটিকে পুনরায় গ্রাউন্ডে ফিরিয়ে আনেন। এরপর থেকে ওসমানী বিমানবন্দরেই স্থানীয় প্রকৌশলী এবং পরবর্তীতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দলের সমন্বয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মেরামত কাজ চালানো হয়।
আটকে থাকা ৪১৯ জন যাত্রীদের মধ্যে একটি বড় অংশই পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য যাওয়া যাত্রী। দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টা অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার কারণে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অভিযোগ ওঠে, মধ্যরাত পর্যন্ত যাত্রীদের উপযুক্ত থাকার ব্যবস্থা না করা এবং নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কারণে বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফদের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের বেশ বাগবিতণ্ডা হয়।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পূর্ণ নিরসন করে বিকাল ৪টার মধ্যে উড্ডয়নের সার্বিক পরিকল্পনা থাকলেও দূরদূরান্ত থেকে যাত্রীরা বিমানবন্দরে পুনরায় পৌঁছতে কিছুটা বিলম্ব করেন। ফলে যাত্রী উঠানামা সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সেখান থেকে নতুন যাত্রী যুক্ত হয়ে উড়োজাহাজটি সরাসরি জেদ্দার উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়।
যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের একাংশকে হোটেলে আবাসন সুবিধা দেওয়া হয়েছিল এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সাময়িকভাবে নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন। বিস্তারিত এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।

