চীন-ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের
আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর (চীন ও ভারত) সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই তিনি ধরে নিচ্ছেন, এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে এবং সেই ভিত্তির ওপর ভবিষ্যতের সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্প্রতি ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, অর্জিত সাফল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।
‘বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে স্বল্প সময়ের বৈঠকে সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্ভব হয়নি। সার্বিকভাবে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে’— যোগ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কথা বলবে। আর জ্বালানি সহযোগিতা ইতোমধ্যেই চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি জ্বালানি সমঝোতা রয়েছে এবং এ খাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এ সংকটের টেকসই সমাধানে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় উদ্যোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতা করবে।
বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ চলছে। এটি কোনো একক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সব পর্যায়েই সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গ বা বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. খলিলুর রহমান।

