দোয়ারাবাজারে বিদ্যালয়ের সঙ্গে ভূমি মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ, আদালতে মামলা
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়নে রেকর্ডভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক ভূমি মালিকের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের বাধার মুখে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জমির স্বত্ব দাবি করে এবং পর্চার মন্তব্য কলাম সংশোধনের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির মালিক শরিয়ত আলী সমাই তালুকদার।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাণ্ডারগাঁও ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজার সংলগ্ন হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ৮ শতক জমি শরিয়ত আলী সমাই তালুকদারের নামে রেকর্ডভুক্ত। তবে সেটেলমেন্ট জরিপের সময় পর্চার মন্তব্য কলামে ‘অনুমোদন সূত্রে দখল হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ’ উল্লেখ করা হয়। এই মন্তব্য কলামের সূত্র ধরেই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিটিকে বিদ্যালয়ের মাঠের অংশ দাবি করে শরিয়ত আলীকে ঘর নির্মাণে বাধা প্রদান করে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন।
জানা যায়, এক সময় ওই জমিতে বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হতো এবং দীর্ঘদিন তা পতিত অবস্থায় ছিল। রেকর্ডভুক্ত মালিক জমিটি ব্যবহার না করায় এবং বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন হওয়ায় জরিপের সময় ভুলবশত বা অন্য কোনো উপায়ে মন্তব্য কলামে বিদ্যালয়ের দখলের বিষয়টি উঠে আসে।
জমির রেকর্ডভুক্ত মালিক শরিয়ত আলী সমাই তালুকদার বলেন, আমি ক্রয়সূত্রে এই জমির মালিক এবং আমার নামেই জমিটি রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। জমিটি বিদ্যালয়ের মাঠের সীমানার বাইরে অবস্থিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নোটিশ পাওয়ার পর আমি সুনামগঞ্জ জেলা জজ আদালতে পর্চার ওই ত্রুটিপূর্ণ মন্তব্য কলাম সংশোধনের জন্য মামলা দায়ের করেছি। আমার রেকর্ডভুক্ত জমি অন্য কেউ পর্চায় দখল লিখিয়ে নিলেই সেটি তাদের হয়ে যায় না।
হাজী কনু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ রাফিজ আলী বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠের জায়গায় ঘর নির্মাণ করতে দেখে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বর্তমানে জমিটির মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়টি আইনগতভাবে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে শরিয়ত আলী সমাই তালুকদারকে আপাতত তাঁর উঠানো বাঁশের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে জমিটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিষয়টির সুষ্ঠু ও আইনানুগ সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

