বেসরকারি শিক্ষকদের সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ
বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও একাধিক পেশায় যুক্ত থাকার ওপর সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ মূল এখতিয়ারাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। তাঁকে সহযোগিতা করেন ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিক। রিট আবেদনটি দায়ের করেন মুহাম্মদ মাসুদ হাসানসহ একাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক (রিট পিটিশন নম্বর- ২২২৪৭/২০২৫)।
রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা নতুন এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই নীতিমালায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটির বেশি পেশা বা চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং কোনো ধরনের সম্মানী বা ‘অনারারিয়াম’ গ্রহণ করলে তাঁদের এমপিও বাতিলের বিধান কার্যকর হবে।
শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সরকারের এই বিধান অসাংবিধানিক, আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। বিশেষ করে সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেবল এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে শিক্ষকদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না।
শুনানি শেষে আদালত শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—এমপিও নীতিমালার বিতর্কিত ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারা কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না। রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি বিচারাধীন থাকবে বলে আদালত জানান।
এ বিষয়ে ব্যারিস্টার কাজী রহমান মানিক গণমাধ্যমকে বলেন, সংবিধান নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দিয়েছে। শিক্ষকদের সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া সেই মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে রুল জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০০৮ ও ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিটের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। শিক্ষকদের সাংবাদিকতা ও পেশাগত স্বাধীনতার প্রশ্নে বর্তমান এই রিটটি নতুন করে আইনি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
