দিরাইয়ে আগুনে পুড়ল ১৩ কৃষকের বসতঘর
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় গ্যাসের চুলা থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জন কৃষকের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে বসতবাড়ির পাশাপাশি ঘরে থাকা ধান-চাল, বোরো মৌসুমের বীজধান, সার-কীটনাশক, আসবাবপত্র ও জমানো নগদ টাকাসহ সর্বস্ব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে গ্রামের গৌরাঙ্গ দাসের রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের বাড়িগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হলেন—কালী দাস, সোমলাল দাস, জিনেশ দাস, গৌরমোহন দাস, রামাকান্ত দাস, সুবল দাস, খুশিলাল দাস, মিতিলাল দাস, ধীরেন্দ্র দাস, কুমুদ দাস, প্রমোদ দাস, বারিন্দ্র দাস ও অমৃত লাল দাস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জারলিয়া গ্রামের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনুন্নত ও সরু হওয়ায় খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ততক্ষণে কৃষকদের সর্বস্ব পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনে প্রশাসন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।
বোরো মৌসুমের আগমুহূর্তে বীজধান, সার ও সহায়-সম্বল সব হারিয়ে এখন বাকরুদ্ধ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। খোলা আকাশের নিচে থাকা এসব নিঃস্ব পরিবারগুলো অবিলম্বে খাদ্য, বস্ত্র ও ঘর নির্মাণের জন্য জরুরি সরকারি-বেসরকারি মানবিক সহায়তা কামনা করেছে।
