বড়লেখায় এইচএসসি ও সমমান: কারিগরিতে পাস ৯০.৫৪%, কলেজে মাত্র ৩৭.৫৮ শতাংশ
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সাধারণ কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছেন ৮০৮ জন শিক্ষার্থী।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক এ ফলাফল নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বড়লেখা উপজেলার কলেজগুলো থেকে মোট ১ হাজার ৬৬৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৬২৫ জন। কলেজ পর্যায়ে গড় পাসের হার ৩৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৭ জন। মাদ্রাসা শাখা (আলিম) থেকে ২০৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১১৬ জন; পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে কারিগরি শাখা থেকে ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭ জন পাস করেছেন; পাসের হার সর্বোচ্চ ৯০ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন।
কলেজগুলোর ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ৬৫৯ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১৮৬ জন (পাসের হার ২৮.২২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন)। নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজ থেকে ৫৮৪ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২৫৪ জন (পাসের হার ৪৩.৪৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ জন)। দাসের বাজার আদর্শ কলেজ থেকে ১৫৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫৭ জন (পাসের হার ৩৬.৭৭ শতাংশ)। শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৮২ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৫৩ জন (পাসের হার ৬৪.৬৩ শতাংশ)। এম. মুন্তজিম আলী মহাবিদ্যালয় থেকে ৮৭ জনের মধ্যে ৪৪ জন (পাসের হার ৫০.৫৭ শতাংশ) এবং সুজানগর পাথারিয়া কলেজ থেকে ৯৬ জন অংশ নিয়ে পাস করেছেন ৩১ জন (পাসের হার ৩২.২৯ শতাংশ)। সাধারণ কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ।
মাদ্রাসাগুলোর ফলাফলে দেখা যায়, বড়লেখা মোহাম্মাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৫০ জনের মধ্যে ৩১ জন (পাসের হার ৬২.০০ শতাংশ), সুজাউল কামিল মাদ্রাসা থেকে ৫৩ জনের মধ্যে ৩১ জন (পাসের হার ৬০.৭৮ শতাংশ), চান্দ্রগ্রাম আনোয়ার উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে ২২ জনের মধ্যে ৫ জন (পাসের হার ২২.৭৩ শতাংশ), পাথারিয়া গাংকুল মনসুরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা থেকে ৩৩ জনের মধ্যে ১৬ জন (পাসের হার ৫৩.৩৩ শতাংশ) এবং পরগনাহী দৌলতপুর সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছেন (পাসের হার ৪৪.৪৪ শতাংশ)। তবে মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য দেখিয়েছে ইটাউরী মহিলা আলিম মাদ্রাসা; প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন (পাসের হার ৮৩.৩৩ শতাংশ) এবং একমাত্র জিপিএ-৫টি এ প্রতিষ্ঠান থেকেই এসেছে।
এ ছাড়া উপজেলার একমাত্র কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবাদুর রহমান চৌধুরী টেকনিক্যাল কলেজ থেকে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৬৭ জন কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৯০ দশমিক ৫৪ শতাংশ পাসের হারের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।
