জয়ের মঞ্চ তৈরি করেও জিততে পারল না বাংলাদেশ
আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনটি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের জয়ের উল্লাসে রাঙানো। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র কয়েকটি উইকেট, হাতে ছিল পর্যাপ্ত সময়। কিন্তু ক্রিকেট যে কাগজের হিসাব মানে না, সেটাই প্রমাণ হলো আবুধাবিতে। দারুণ বোলিং আর দীর্ঘ লড়াইয়ের পরও জয় অধরা রইল বাংলাদেশের। শেষ বিকেলে আফগানিস্তানের দৃঢ়তায় সিরিজের একমাত্র টেস্টটি ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো দুই দলকে।
৪৩৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগানিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ছিল না বললেই চলে। পঞ্চম দিনে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল উইকেট বাঁচিয়ে ড্র নিশ্চিত করা। সেই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত তারা সফল। দিনের খেলা শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান।
সকালের সেশনে তিন উইকেট হাতে নিয়ে মাঠে নামা আফগান ব্যাটাররা দেখিয়েছেন ধৈর্যের চূড়ান্ত পরীক্ষা। সেদিকুল্লাহ আতাল এবং হাশমতউল্লাহ শহীদির দায়িত্বশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের বোলারদের বারবার হতাশ করেছে। মাঝে প্রচণ্ড গরমে ক্র্যাম্পের কারণে আফগান অধিনায়ক শহীদি মাঠ ছাড়লেও, তা বাংলাদেশের জন্য তেমন কোনো সুবিধা বয়ে আনতে পারেনি।
তবে লাঞ্চের ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের বিশ্বরেকর্ড গড়া ক্যাচটি বাংলাদেশের শিবিরে জয়ের আশা জাগিয়েছিল। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণিতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও, এক প্রান্ত আগলে রাখেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। ৩৩২ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ১১১ রানের সেই ইনিংসই বাংলাদেশের জয়ের পথে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের হয়ে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান পেয়েছেন একটি করে উইকেট। বোলাররা চেষ্টা করেছেন ঠিকই, কিন্তু দিনের শেষভাগে আফগান ব্যাটারদের শেষ প্রতিরোধ ভাঙার জন্য যে ধারালো আক্রমণ প্রয়োজন ছিল, সেটি যেন শেষ পর্যন্ত আর হয়ে ওঠেনি।
আবুধাবি টেস্টে ব্যক্তিগত অর্জনে লিটনের বিশ্বরেকর্ড ও আতালের ক্যারিয়ার সেরা সেঞ্চুরি থাকলেও, দলীয় প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের জন্য রয়ে গেল একরাশ আক্ষেপ। জয়ের এত কাছে গিয়েও জয় ছুঁতে না পারার দীর্ঘশ্বাস নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের।

