গণভোটের রায় নিয়ে প্রতারণা করছে সরকার
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক। তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বলেন, জনগণের রায়কে অবজ্ঞা করে কোনো সরকার দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর আয়োজিত এক বিশাল নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল গাফফারের পরিচালনায় সমাবেশে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়া সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা চরম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, কৃষকদের সার নিশ্চিত করা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।’
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহিনূর পাশা চৌধুরী, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ প্রমুখ।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, মাওলানা সামীউর রহমান মুসা, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, আলহাজ্ব মাওলানা আতাউর রহমান এবং মহানগর সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল পীর মাওলানা আব্দুল জব্বার, মাওলানা মুহিবুর রহমান ও মুফতি আলী আহমদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মামুনুল হক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল করে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও ন্যায্য দাবি আদায়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
সমাবেশ থেকে আগামী দিনে রাষ্ট্রের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

