সিলেটে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে মালিকদের প্রতি প্রশাসনের কঠোর বার্তা
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)’ যথাযথভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যে সিলেটে ইটভাটা মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে এবং বিদ্যমান আইন মেনে ইটভাটা পরিচালনার জন্য মালিকদের প্রতি কড়া আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সিলেট পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সুরমা সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি এবং প্রায় ৫০ জন ইটভাটা মালিক উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইটভাটা মালিকদের বিদ্যমান আইন ও সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ কার্যক্রম পরিহার করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পর্যায়ক্রমে ব্লক ইটের উৎপাদন ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে হবে।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ইটভাটা পরিচালনার আইনগত শর্ত ও নির্দেশনাগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বৈধ লাইসেন্স গ্রহণ, অনুমোদিত উৎস থেকে মাটি সংগ্রহ, জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, মানসম্মত কয়লার ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং ইটভাটার অবস্থানসংক্রান্ত বিধি-বিধান মানার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
মতবিনিময় পর্বে ইটভাটা মালিকরা কয়লার গুণগত মান, নদীর পলি ও খাল খননের মাটি ব্যবহারের সুযোগ, ইটভাটার দূরত্বসংক্রান্ত শর্ত এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সহায়তা চেয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।
সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি, সিলেট জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থায় রূপান্তরের বিষয়ে একমত পোষণ করেন উপস্থিত ইটভাটা মালিকরা।

