আসামিকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
রাজনগরে ‘হাফেজ তারেক’ হত্যা মামলা
মৌলভীবাজারের রাজনগরে চাঞ্চল্যকর হাফেজ রফিকুল ইসলাম তারেক হত্যা মামলায় টাকার বিনিময়ে মূল আসামিদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজনগর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের চাচা কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঘরগাঁও গ্রামে হাফেজ তারেককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন সেলিনা জান্নাত সুমা বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে রাজনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরূপ সরকার। তদন্ত শেষে ৩১ জুলাই তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। অভিযোগ করা হয়, পুলিশ চার্জশিটে পরিকল্পিতভাবে মামলার প্রধান আসামি সবুজ মিয়া, হৃদয় মিয়া ও মোমিন মিয়াকে বাদ দিয়েছে এবং কেবল মেহেদী হাসান আতিক ও রিয়াদ মিয়াকে অভিযুক্ত করেছে।
নিহতের বোন ও মামলার বাদী সেলিনা জান্নাত সুমা আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ভাই একজন নিরপরাধ হাফেজ ছিলেন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে ও বিপুল অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল হুকুমদাতাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমরা এই একপেশে চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করছি এবং ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অরূপ সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাদী পক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার পরপরই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তদন্তে কেবল দু’জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। নিরপরাধ কাউকে অপরাধী বানানোর সুযোগ নেই।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, পুলিশ এখানে কোনোভাবেই প্রভাবিত হয়নি। মামলার অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিক তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িতদেরই কেবল চার্জশিটভুক্ত করা হয়েছে।
নিহতের পরিবার এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সঠিক বিচারের স্বার্থে পুনরায় তদন্তের জন্য উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।—বিজ্ঞপ্তি
