সিলেট জেলা জাসাসের আবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদকের পদ স্থগিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সিলেট জেলা শাখার আবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক নাজনীন আক্তার আশার পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (দফতরের দায়িত্বে) মো. মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ‘অনিবার্য কারণবশত’ পদ স্থগিতের কথা উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি জাসাসের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হেলাল খান ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন স্বাক্ষরিত সিলেট জেলা শাখার ৮৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই নাজনীন আক্তার আশার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ ওঠে, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও সেলফি তুলতে দেখা যায়।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিত জাসাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের জেলা কমিটিতে বিগত সরকারের সুবিধাভোগী ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে বিতর্কিত ব্যক্তিকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নবনির্বাচিত জাসাস সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রায়হান এইচ খান বলেন, ‘কমিটি ঘোষণার পরপরই বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গোচরে আনি। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করে নাজনীন আক্তার আশার পদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখবে। তবে এ ঘটনায় জেলা কমিটির দায়বদ্ধতা ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

